শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবিতে রাজপথে সাংস্কৃতিক কর্মীরা

কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া টাঙ্গাইলের বাউলশিল্পী শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ব্যনারে সাংস্কৃতিক প্রেমি মানুষদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।

বুধবার ১৫ ( জানুয়ারি) দেশের সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে রাজধানীর শাহবাগে। সমাবেশে দেখা যায়, একতারা এবং দোতারার গায়ে শিকল পড়ানো, এর অর্থ বুঝানো হয়েছে সংস্কৃতিকে শাসকগুষ্টি শিকলে বন্দি করেছে।

প্রতিবাদী সমাবেশে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, দেশের সাংস্কৃতিতে মৌলবাদীদের নোংরা আগ্রাসন মেনে নেয়া হবে না; সরকার মৌলবাদীদের তোষণ করছে, দেশে আজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, উগ্রজাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করা এই সরকার মুক্তিকামী মানুষের বিপক্ষে অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, জেল-জুলুম অত্যাচার করে এই দেশের সাংস্কৃতিকে রুখে দেয়া যাবে না, মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না, অবিলম্বে শরিয়ত বয়াতিকে মুক্তি দিতে হবে, যদি শরিয়ত বয়াতিকে মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে উদীচী সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

সিলেট: শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবিতে সিলেটে প্রতিবাদী ‘গানমিছিল’ করেছে নাট্যসংগঠন নগরনাট, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, উদীচীসহ বিভিন্ন সংগঠন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে এ ‘গানমিছিল’ শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। সংস্কৃতি কর্মীরা গানের সাথে বাঙালি ঐতিহ্যের যে মেলবন্ধন রয়েছে তা তুলে ধরেন। এছাড়া তারা গানে গানে বাউলশিল্পী শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানান। সেসময় তারা গানে গানে বাউলশিল্পী শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবি এবং তাকে অযৌক্তিক মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের প্রতিবাদ জানান।

রাজশাহী: গত সোমবার রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ফোরাম, সেসময় তারা গানে গানে বাউলশিল্পী শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানায়।

এদিকে শরিয়ত বয়াতিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার শরিয়তকে আদালতে হাজির করা হবে এমন খবর পেয়ে প্রায় শতাধিক বাউল এবং শরিয়তের আত্মীয় স্বজন আদালত এলাকায় ভীড় করেন। সেখানে শরিয়তের ভাই মারফত আলী জানান, প্রতিবছর তাদের বাড়িতে বাউল গানের আসর হয়। এ গান বন্ধ করার জন্য এ মামলার বাদী মাওলানা ফরিদুল ইসলাম এলাকার কিছু মানুষ সঙ্গে নিয়ে কয়েক বছর যাবত হুমকি দিচ্ছে। তারা চাঁদাও চেয়েছিলো।

তবে শরিয়ত বয়াতি কারাগারে থাকলেও গ্রামে তার পরিবার রয়েছে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’। পরিবার সূত্রে জানা যায়,‘নিরাপত্তার শঙ্কায়’ স্কুলে যেতে পারছেন না তার সন্তানেরা। “যে চক্রটি শরিয়তের বিরুদ্ধে নানা অপ্রচার ও মামলা করেছে তারাই পরিবারটিকে হুমকি দিচ্ছে।

উল্লেখ্য: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্লা গ্রামের বাউল শরিয়ত বয়াতি (৩৫) গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার একটি বাউলে গানের আসরে যান। সেখানে পালা গানে তিনি বলেন, ‘গান বাজনা হারাম কোরআনে কোথাও এ কথা বলা নাই। কেউ যদি হারাম প্রমাণ দিতে পারেন তবে তাকে ৫০ লাখ টাকার চ্যালেঞ্জ দিলাম।’
ইউটিউবে শরিয়তের এই বক্তব্য তার নিজ গ্রামের কিছু মানুষ দেখে। এরপর তারা অভিযোগ আনেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন শরিয়ত। তার বিচারের দাবিতে এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন তারা। গত ৯ জানুয়ারি আগধল্লা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরিয়তের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

প্রআ/01162020

Leave a Reply

Your email address will not be published.