দীপন হত্যায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড; রায়ে সন্তুষ্ট পরিবার

দীপন হত্যায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড; রায়ে সন্তুষ্ট পরিবার

জাগৃতি প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আটজন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে।

আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) বুধবার দুপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তার বাবা আবুল কাসেম ফজলুল হক। আজ বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পরে তিনি মন্তব্য করে বলেন, ‘এটা প্রত্যাশিত রায়।’

রায় ঘোষণার সময় দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান রাজিয়া রহমান।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামি হলেন মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির, আবদুস সবুর ওরফে আবদুস সামাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল রিফাত, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব সাজিদ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের, চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব। তাঁদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক।

এরা সবাই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য বলে জানানো হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত মেজর জিয়াউল হক জিয়া ও আকরাম পলাতক রয়েছে।

আদালত তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, জিহাদের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসার উল্লা বাংলা টিমের সদস্যদের যারা এই মামলার আসামী তাদের লক্ষ্য ছিল, ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের হত্যা করে মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া।

এছাড়া মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বিঘ্নিত করাও লক্ষ্য ছিল বলে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে খুন হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। একই বছর ফেব্রুয়ারিতে একই ধরণের আরেকটি হামলায় নিহত লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের কয়েকটি বইয়ের তিনি প্রকাশক ছিলেন।

আনসার আর ইসলাম বাংলাদেশ নামে কট্টর ইসলামপন্থী একটি সংগঠন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে।

ফয়সল আরেফিন দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে।

মি. আরেফিনকে হত্যার পরই তার স্ত্রী রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবি। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

২০১৯ সালে এই মামলার বিচার শুরুর এক বছর তিন মাসের মাথায় এটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে।

এদিকে মি. আরেফিনকে হত্যার দিনেই ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিন জনকে একই কায়দায় কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল। তবে তারা কেউই মারা যাননি।