কমরেড অনিল মুখার্জীর ৩৯তম প্রয়ানদিবস পালিত

কমরেড অনিল মুখার্জীর ৩৯তম প্রয়ানদিবস পালিত

আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির সাবেক সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বিপ্লবী রাজনীতিবিদ ও লেখক কমরেড অনিল মুখার্জির ৩৯তম প্রয়ানদিবস।

এ উপলক্ষ্যে দুপুরে সিপিবি’র পার্টি কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম-এর নেতৃত্বে কমরেড অনিল মুখার্জির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সূত্রাপুর থানার উদ্যোগে আজ সকাল ৭:৩০টায় পোস্তগোলা শ্মশানে অনিল মুখার্জীর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয় ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্রাপুর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জননেতা কমরেড বিকাশ সাহার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা কমিটির নেতা কমরেড আব্দুল কাদের, ৪৫ নং ওয়ার্ডের সম্পাদক কমরেড সাইফুল ইসলাম সমীর, ৪৩ নং ওয়ার্ডের সম্পাদক কমরেড গোলাম রাব্বী খান, শ্যামপুর শাখার সম্পাদক কমরেড ফিরোজ আলম মামুন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লবী ছাত্রনেতা দিপক শীল প্রমুখ।

কমরেড অনিল মুখার্জির সংক্ষিপ্ত জীবনী

কমরেড অনিল মুখার্জী ১৯১২ সালের ১০ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। 

১৯৩০ সালে কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে  তিনি প্রথম কারাবরণ করেন। এ ছাড়া তিনি মেদিনীপুর হিজলী বন্দিশিবিরে আটক  ছিলেন। সশস্ত্র সংগ্রামে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে  আন্দামানে প্রেরণ করে। বন্দিদের মরণপণ আন্দোলনের ফলে ১৯৩৮ সালে তিনি  মুক্তিলাভ এবং কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৪৬ সালে  নারায়ণগঞ্জের সুতাকল শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনে নেতৃত্বদান করেন। ১৯৪৭  সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পুনরায় তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭১ সাল  পর্যন্ত আত্মগোপন অবস্থায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। ১৯৫৬ সালে  কমিউনিস্ট পার্টির তৃতীয় সম্মেলনে (গোপন) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর  সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে পার্টির প্রথম কংগ্রেসে (গোপন) কেন্দ্রীয়  কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে গোপনভাবে প্রথমবারের  মতো মস্কো সফর এবং বিশ্বের পঁচাত্তরটি পার্টির মহাসম্মেলনে পূর্ব  পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৭৩ ও ১৯৮০ সালে  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় ও তৃতীয় কংগ্রেসেরও পুনরায় কেন্দ্রীয়  কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন অনিল মুখার্জী। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের  স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল :  সাম্যবাদের ভূমিকা, শ্রমিক আন্দোলনের হাতেখড়ি, স্বাধীন বাংলাদেশ সংগ্রামের  পটভূমি ও ছোটদের জন্য লেখা ‘হারানো খোকা’।

১৯৮২ সালের ৮ফেব্রুয়ারি অনিল মুখার্জীর প্রয়াণ ঘটে।