মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান: বিক্ষোভ ঠেকাতে বন্ধ ইন্টারনেট

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান: বিক্ষোভ ঠেকাতে বন্ধ ইন্টারনেট

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ ও এনএলডি নেতা অং সান সু চিসহ সেনাদের হাতে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারজুড়ে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আজ (৭ ফেব্রুয়ারি) রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে গত সোমবার হাজার হাজার মানুষ বিশাল এক বিক্ষোভ সমাবেশে করার পর সামরিক শাসকরা দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস ইন্টারনেট অবজারভেটরি বলেছে, সাধারণ পর্যায়ে সংযোগ ১৬%-এ নেমে যাওয়ার মাধ্যমেই এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর হয়।

প্রধান শহর ইয়াঙ্গনে সাধারণ মানুষ “সামরিক একনায়ক, ব্যর্থ, ব্যর্থ; গণতন্ত্র, জয়, জয়” বলে স্লোগান দেয়।

পরে পুলিশ দাঙ্গার ঢাল হাতে শহরের কেন্দ্রস্থলের প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে দেয়।

সাধারণ মানুষ যেন কোন বিক্ষোভ সমাবেশ করতে না পারে এজন্য সামরিক বাহিনী টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। দেশটির সবচাইতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল আগেই।

ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের উপর থেকে সেনাবাহিনীর এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গিয়েছিলেন, তবে সাধারণ ব্ল্যাকআউট এই ক্ষেত্রেও বড় ধরণের বাধার সৃষ্টি করেছে।

নাগরিক সংস্থাগুলো এই ব্ল্যাকআউট আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ইন্টারনেট সরবরাহকারী এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের এই পদক্ষেপকে “জঘন্য ও বেপরোয়া” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে এতে মিয়ানমারবাসীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি হতে পারে।

সামরিক বাহিনী এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

সভা-সমাবেশ  

গত শনিবার কারখানার শ্রমিক, তরুণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিক্ষোভকারীরা দেশটির নির্বাচিত নেতা অং সান সু চি সহ সেনাবাহিনীর দ্বারা আটক অন্যান্য নেতাদের মুক্তির আহ্বান জানায়।

তারা ইয়াঙ্গনের রাস্তায় মিছিল করে যায়, এ সময় সিটি বাস বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হর্ন বাজায়।

পথচারীরাও তিন আঙুল তুলে হাঙ্গার গেমসের স্যালুটটি দেয়। এই স্যালুট কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এছাড়া অনেকেই বাসার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে না হয় হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে বিক্ষোভের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করে।

বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে গোলাপ এবং পানির বোতল দেয় এবং আহ্বান জানায় তারা যেন নতুন সরকারকে নয় বরং সাধারণ মানুষকে সমর্থন করে।

অভ্যুত্থানে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের ভূমিকা

নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডি দলের ভূমিধ্বস বিজয়ের পরে পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই এই অভ্যুত্থান হয়।

অনেক বার্মিজ এই ঘটনা ফেসবুকের রিয়েল টাইমে দেখেছে, যা দেশটির তথ্য এবং সংবাদের প্রাথমিক উৎস। কিন্তু এর তিন দিন পরে, ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কারণ দেখিয়ে এই ফেসবুক ব্লক করার আদেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায়, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের হাজার হাজার ব্যবহারকারী হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এই অভ্যুত্থানের ব্যাপারে কোন নেতা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য দেননি।

তবে এএফপি জানিয়েছে যে তারা মন্ত্রণালয়ের একটি নথি পেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে দুটি সামাজিক মাধ্যমের সাইট “সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে”। যদিও নথিটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

টুইটারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জনসাধারণের কথা বলা এবং মানুষের দাবি জানানোর অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ফেসবুক মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামের এই কর্তৃপক্ষকে “সংযোগ পুনরুদ্ধার” করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।