মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অবরুদ্ধ, বিক্ষোভ

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অবরুদ্ধ, বিক্ষোভ

হাসপাতালে পিটিয়ে পুলিশ হত্যার মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও জেষ্ঠ্য চিকিৎকদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ (১৮ নভেম্বর) বুধবার সকাল থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা জানতে চান, হাসপাতালের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কীভাবে পুলিশ একজন কর্তব্যরত চিকিৎসককে গ্রেফতার করে? এ বিষয়ে হাসপাতালটির অভিভাবকের ভূমিকা কী? এসব বিষয় জানতেই তারা পরিচালকের কক্ষের সামনে অবস্থান করছেন বলে জানান।

চিকিৎসকরা তিনটি দাবি নিয়ে পরিচালককের কক্ষের সামনের অবস্থান করছেন। দাবিসমূহ- ১. কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের যথাযথ ব্যাখ্যা এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহাল; ২. স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত হয়ে কর্ম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস; ৩. বিএপি এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিত হয়ে কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া।

এদিকে এ ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই হাসপাতালের রোগীরা। বিক্ষোভের কারণে বুধবার সকাল ১০টা থেকে আড়াই ঘণ্টা সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকে ঢাকার এই সরকারি হাসপাতালে। বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষায় থাকতে হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরের পর আনিসুল করিম শিপন নিহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তিনি ৩১তম বিসিএস পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আনিসুলের ঘটনায় করা মামলায় আদালতে যারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।