শ্রম ভবনে অবরুদ্ধ বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি

শ্রম ভবনে অবরুদ্ধ বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি

পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসকে শ্রমভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছে তার মালিকানাধীন ড্রাগন সোয়েটারের শ্রমিকরা।

পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে ড্রাগন গ্রুপের পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের আইননানুগ পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও চুক্তি ভঙ্গ করে পাওনা পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।

এরই প্রেক্ষিতে তার মালিকানাধীন ড্রাগন সোয়েটার ও ইম্পেরিয়াল সোয়েটারের শ্রমিকরা তাদের আইননানুগ পাওনা পরিশোধের দাবিতে গত ১১ নভেম্বর থেক শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা মঞ্জুর মঈন একতা টেলিভিশনকে বলেন, “দীর্ঘ ৭ মাসের বেশি সময় ধরে জুলুমের শিকার হচ্ছে শ্রমিকরা। ড্রাগন মালিকের চুক্তি ভঙ্গের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে আইননানুগ পাওনা পরিশোধের দাবিতেই শ্রম ভবনের সামনে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। আর একারণেই শ্রমিকরা মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসকে শ্রম ভবনে আটক করে রেখেছে।”

তিনি আরো বলেন, “শ্রমিকরা আইননানুগ প্রাপ্য হতে অর্ধেকের বেশি পাওনা ছেড়ে দিয়ে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। বিরাট আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে শ্রমিকরা যে চুক্তি করেছে তা ভঙ্গ করে মালিকপক্ষ প্রমাণ করেছে তারা দেশের আইন এবং শ্রমিকের অধিকারের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল নয়।

মঞ্জুর মঈন “অবিলম্বে চুক্তি প্রতিপালনে মালিককে বাধ্য করতে” সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ১৯৮৬ সালে পুলিশের চাকরি ছেড়ে ব্যাবসা শুরু করেন। রপ্তানিমুখী পোশাকখাতে অল্প সময়েই তিনি শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাতারে উঠে আসেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রসঙ্গত, পাওনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত গত মার্চে। করোনা পরিস্থিতিতে মালিবাগের ড্রাগন ও ইম্পেরিয়াল কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে মে মাস হতে করোনার অজুহাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

টানা আন্দোলনের মুখে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে গত ৭ নভেম্বর ২০২০, শনিবার ড্রাগন গ্রুপের পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের আইননানুগ পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও মালিকপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে শ্রমিকদের দাবি। শ্রমিকরা পাওনা টাকার প্রথম কিস্তি আনতে কারখানায় গেলে চুক্তি অনুসারে শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধে মালিকপক্ষ অস্বীকৃতি জানায় বলেও শ্রমিকরা দাবি করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর থেকে শ্রম ভবনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা।