শাহবাগ থেকে স্লোগানে-মিছিলে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চের যাত্রা শুরু

শাহবাগ থেকে স্লোগানে-মিছিলে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চের যাত্রা শুরু

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আন্দোলনের ডাকে ৯ (নয়) দফা দাবিতে আজ (১৬ অক্টোবর) শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে নোয়াখালি অভিমুখে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ শুরু হয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় শাহবাগ থেকে সম্মিলিত ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে স্লোগানে-মিছিলে ধর্ষণবিরোধী এ লংমার্চ এর যাত্রা শুরু হয়।

বাম-প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠণ, নারী-সাংস্কৃতিক সংগঠণ, শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে প্রায় পাঁচশত সম্মিলিত ছাত্র-জনতা ঢাকা-নোয়াখালি লংমার্চে অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রিপন চাকমা, সিপিবি নেত্রী লুনা নুর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা প্রমুখ।

বেলা পৌঁনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে লংমার্চের বহর উপস্থিত হলে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দিনব্যাপী এ লংমার্চ শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান, চাষাড়া, সোনারগাঁও, চান্দিনা, কুমিল্লা, ফেনী, দাগনভুঞা, চৌমুহনী, নোয়াখালীর একলাসপুর হয়ে মাইজদীতে পৌঁছে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

পাহাড়ে সমতলে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণসহ ৯ (নয়) দফা দাবিতে শাহবাগ থেকে ঢাকা-নোয়াখালি অনুষ্ঠিত হবে।

শাহবাগ-গুলিস্তান-চাষাড়া-সোনারগাঁও-চান্দিনা-কুমিল্লা-ফেনী-দাগনভূঞা-চৌমুহনী-এখলাসপুর-মাইজদী এ রুট দিয়ে লংমার্চ যাত্রা করবে। ফেনীতে ১৬ অক্টোবর রাত্রিযাপন করে পদিন সকালে নোয়াখালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার বেলা পৌঁনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জে নগরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে লংমার্চের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে লংমার্চ নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যাত্রাপথে সোনারগাঁও ও কুমিল্লার চান্দিনায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয় বলেও একতা টেলিভিশনের প্রতিনিধী আমাদের নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে লংমার্চ উপলক্ষে ঢাকা-নারায়নগঞ্জসহ যাত্রাপথের সকল যায়গায় ধর্ষণবিরোধী এ লংমার্চে স্থানীয় সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে বলেও আমাদের প্রতিনিধী জানান। স্বঃতস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষেরা পথসভা ও সমাবেশগুলোতে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করছেন।

ধর্ষণ ও বিচারহীনতা বাংলাদেশ আন্দোলনের আজকে ১৫তম দিন। এর আগে টানা ১৪ দিন ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন শেষে ঢাকা-নোয়াখালি দুই দিনব্যাপী এ লংমার্চের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।