এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নূরের বিরুদ্ধে

এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নূরের বিরুদ্ধে

ফেইসবুক লাইভে এসে ধর্ষণ মামলার বাদী সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করায় এবার ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

আজ (১৪ অক্টবর) বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের সেই শিক্ষার্থী, যিনি এর আগে নূরসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, চরিত্র হনন ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছিলেন।

তিনি এই মামলা করেন বলে স্নগবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী শামীম আল মামুন। তিনি আরো জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ (১)/ক, ২৯ (১) ও ৩১ (২) ধারায় করা মামলার আরজিতে দুইজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

শুনানি শেষে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটি আমলে নেন এবং ওই ছাত্রীর বক্তব্য রেকর্ড করেন।

শামীম আল মামুন জানান, আদালত বিকালে এ বিষয়ে নির্দেশ দেবেন।

মামলায় ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, আসামি নুরুল একজন আইন অমান্যকারী, বাকপটু ও ধূর্ত ব্যক্তি। তিনি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মনগড়া, আইনবহির্ভূত, সরকার-রাষ্ট্রবিরোধী অসত্য, অর্থহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য কোনো কারণ ছাড়াই নিজেকে ভাইরাল করার জন্য প্রকাশ করে থাকেন। ১২ অক্টোবর বেলা আড়াইটায় তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তাঁকে (ছাত্রী) দুশ্চরিত্রা বলেন, যা একটি মেয়ের জন্য অপমানজনক শব্দ। এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য সমাজে ঘৃণা-শত্রুতা-অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। তাঁর (ছাত্রী) সুনাম ক্ষুণ্ন ও মানহানি করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই মামলায় পরোয়ানা জারি করে নুরুলকে গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার করতে ওই ছাত্রী আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূর আজ দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “ধর্ষণ মামলায় ওই ছাত্রী আমাকে একেবারেই ভিত্তিহীনভাবে জড়িয়েছেন। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।”

এছাড়াও তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “আমি বলতে চেয়েছি তিনি ‘দুশ্চরিত্রাহীন’, তিনি ‘দুশ্চরিত্র’ নয়।”

এ ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার কথায় তিনি যদি দুঃখ পেয়ে থাকেন, তাহলে আমিও তার কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি”।

ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন ওই ছাত্রী।

মামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে নুরুলও আছেন। পরে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে আরও একটি মামলা করেন ছাত্রী।

ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় পরিষদের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. নাজমুল হুদা। সাইফুল সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। আর নাজমুল সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি।

আগের দুই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন ওই ছাত্রী। তিনি বলছেন, সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাঁর অনশন চলবে।