ষষ্ঠ দিনে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনঃ চলছে অবস্থান

ষষ্ঠ দিনে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনঃ চলছে অবস্থান

মিছিলে-স্লোগানে, গানে-কবিতায় দেশব্যাপী ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ৯ দফা দাবিতে আজকেও রাজধানীর শাহবাগে ষষ্ঠ দিনের মত অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।

পাহাড় ও সমতলে দেশব্যাপী ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আজ (১০ অক্টোবর) বেলা ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে গণজমায়েত ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ধর্ষণবিরোধী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আন্দোলনের ৯ (নয়) দফা দাবিসহ আগামীদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের আগামী দিনের কর্মসূচি-
১। ১১ অক্টোবর (রবিবার)-ধর্ষণ বিরোধী আলোকচিত্র প্রদর্শনী
২। ১২ অক্টোবর (সোমবার)-ধর্ষণ বিরোধী সাংস্কৃতিক সমাবেশ
৩। ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার)-ধর্ষণ বিরোধী চলচ্চিত্র উতসব
৪। ১৪ অক্টোবর (বুধবার)-ধর্ষণ বিরোধী নারী সমাবেশ
৫। ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার)-নারীদের অংশগ্রহণে ধর্ষণ বিরোধী সাইকেল র‍্যালী
৬। ১৬-১৭ অক্টোবর (শুক্র-শনিবার)-শাহবাগ-বেগমগঞ্জ ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চ

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ৯ (নয়) দফা-
১। সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ণ বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ণ বন্ধ করতে হবে।
৩। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪। ধর্মীয়সহ সকল ধরণের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপ্সথাপন বন্ধ করতে হবে। পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএল এর কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চ্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৫। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিকমে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৭। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৮। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
৯। গ্রামীন সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।