৫২ পেরিয়ে একতা…

দেখতে দেখতে গণমানুষের মুখপত্র সাপ্তাহিক একতা ৫৩ বছরে পা দিয়েছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে গণমানুষের কাছে গণমানুষের লড়াই-সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরার এই কৃতিত্ব আর কারো নেই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একতা সেই দায়িত্ব নিবীড়ভাবে পালন করে যাচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একতাকে কখনও কখনও বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে; বিশেষ করে সামরিক সরকারের আমলগুলোতে। তবে গণমানুষের শক্তিকে পুঁজি করে একতা সেই প্রতিবন্ধকতা উৎরাতে পেরেছে।

একতা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাপ্তাহিক মুখপত্র। সেই হিসেবে একতার দায়িত্ব আর দশটি সাধারণ সংবাদপত্রের মতো নয়। তার দায়িত্ব রাজনৈতিক এবং দায়বদ্ধতা শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতির প্রতি। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একতাকে অন্য সব পত্রিকার মতো তথাকথিত জনপ্রিয়তার হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিলে চলে না। বরং তাকে আরও সাবধানী ও দায়িত্বশীল হতে হয় রাজনৈতিক তত্ত্ব এবং গণমানুষের লড়াইয়ের মেলবন্ধনে। উপেক্ষা করতে হয় তথাকথিত চটুল জনপ্রিয়তার। এ কাজটি খুব কঠিন। আর সেই কঠিন কাজটিই একতা করে চলেছে।

সংবাদপত্রকে বলা হয়, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে একটি সংবাদপত্রের সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক। কিন্তু আজকের দিনে মুক্তবাজার অর্থনীতির বদৌলতে আমরা সবাই জানি, বাজারি সংবাদপত্র রাষ্ট্রের বা গণমানুষের দায়িত্ব কতোটা পালন করে! আর কতোটা কথা বলে সে বিজ্ঞাপনদাতা ও মালিকের স্বার্থরক্ষার জন্য।

তার ওপর প্রকৃত সত্য প্রকাশ না করার ব্যাপারে সরকারের চাপ তো আছেই। সরকারি দলের সাংবাদিক নেতারাই আজকাল হরহামেশাই সেটা বলেন যে, সরকার তাদের কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে। তারা সবসময় চাপের মধ্যে থাকেন। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না সাংবাদিকরা।

ফলে ‘গণমাধ্যম’ এখন শুধ্ইু ‘সংবাদমাধ্যম’। কিন্তু একতাকে সেই বিজ্ঞাপনদাতা ও মালিকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষ করে চলতে হয়। একতার চোখ থাকে শ্রমিক শ্রেণির প্রতি যে মালিকের শোষণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শ্রমিক-শ্রেণির লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। সেই লড়াকু শ্রমিকই বারবার একতার পাতায় মুখ উজ্জ্বল করে ফুটে উঠে। একতা তার সংগ্রামের বার্তা নিয়েই বারবার মানুষের কাছে যায় এবং মানুষের সেই সংগ্রামের প্রতি সহমর্মী করে; নিজের শ্রেণি-সংগ্রামের প্রতি উৎসাহী করে।

এই শুভ লগ্নে একতার সকল পাঠক, গ্রাহক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী সবার প্রতি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.