৪র্থ দিনের মতো চলছে ছাত্র ইউনিয়নের স্যানিটাইজার বিতরণ ও প্রস্তুত

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে চতুর্থ দিনের মতো চলছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও প্রস্তুত কর্মকান্ড।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ। করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পণ্যসমূহ শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে স্যানিটাইজার, মাস্ক বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতিমধ্যে সংগঠনটি প্রায় ৯ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করেছে এবং একইসাথে বিনামূল্যে বিতরণ কর্মসূচি চলছে। বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার নার্সদের জন্য, কামরাঙ্গীরচরের রিক্সা গ্যারেজগুলোতে, ইলেকট্রিক মিডিয়ার
জার্নালিস্টদের সংগঠন ‘ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট’, শাহবাগ, নীলক্ষেত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এই ছাত্র সংগঠনটি। এরই মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল এবং সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, করোনা মহামারী প্রতিরোধ করতে চতুর্থদিনের মতো আমাদের সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ৩০ জনের একটি দল কাজ করছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি উৎপাদন বাড়ানোর।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের কাছে সহযোগিতার জন্য ফোন আসছে এবং আমরাও আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মানুষের চাহিদা মেটানোর। সরকারের যে দায়িত্ব ছিল তা সে পালনে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবানসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরির কাঁচামালের দামও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এটিই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও সরকারের নেই। হাসপাতালে যে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার যদি তার দায়িত্ব পালন না করে তাহলে আমাদেরকেই আমাদের নিজেদেরকে নিরাপদ রাখার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

তাই আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মানুষের গণঅর্থায়নে মানুষের জন্য আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের সাহায্যই পারবে আমাদের এই কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। দেশবাসীকে সচেতন এবং নিরাপদ থাকার আহ্বান জানান নেতারা।