১৮ বছর বর হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

১৮ বছর পর লেখক ও অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

আজ (১৩ এপ্রিল), বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগনে শহীদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম।

চারজনের মধ্যে জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর ও আনোয়ারুল কারাগারে আছেন। সালেহীন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক।

আঠারো বছর আগের এ ঘটনার মামলায় গত ২৭ মার্চ আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। সেদিন আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজের দিন ধার্য করেন। সে অনুসারে আজ রায় হলো।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে জখম করেছিলো একদল সন্ত্রাসী। এরপর চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ওই বছরেই অগাস্টে তিনি বৃত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য গিয়েছিলেন জার্মানিতে। সেখানেই কয়েকদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

এর আগেই ঢাকায় হামলার শিকার হওয়ার পরদিন অধ্যাপক আজাদের ভাই হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে পাঁচজনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল। তবে বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি পুলিশ দ্বিতীয় দফায় একটি তদন্ত করে। এই তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো ঢাকায় দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে। এতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)’র পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

মামলার অভিযোপত্রে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিলো যে, চিকিৎসা প্রতিবেদন, জার্মানি থেকে পাঠানো মৃত্যুর সনদ, ময়না তদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে, আক্রমণের কারণেই লেখক হুমায়ুন আজাদ মারা যান।

অভিযোগপত্রে যারা সরাসরি ঘটনার সাথে জড়িত ছিল, এমন জেএমবির পাঁচজন সদস্যকে অভিযুক্ত করার কথা তখন আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন। এদের মধ্যে একজন পলাতক এবং চারজন তখন আটক ছিলেন। এখন তাদের মধ্যে দুজন আটক আছেন আর একজন এখনো পলাতকই আছেন। অন্য দুজন গ্রেপ্তার হলেও ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা করে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছিলো জঙ্গিরা। তবে এ সময় একজন পালিয়ে যেতে পারলেও অপরজন পুলিশের হাতে আটক হন ও পরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.