হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত; কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে আলোচিত ইসলামিক প্ল্যাটফর্ম হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন এর আমির জুনাইদ বাবুনগরী।

পরে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোররাতে ঘোষণা করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, যারা সবাই আগের কমিটিতে ছিলেন।

গত (২৫ ফেব্রুয়ারি) রোববার রাতে এক বিবৃতিতে জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, “দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের পরামর্শক্রমে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হইল।”

এরপর রোববার রাত পৌনে ৩টার দিকে ফেইসবুকে দেওয়া ও গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যে তাতে আরও দুজনকে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়।

হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির উপদেষ্টা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটিতে প্রথমে আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীকে রাখা হয়। এদের মধ্যে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী হলেন জুনাইদ বাবুনগরীর মামা।

রাত ৪টার দিকে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সদস্য হিসেবে সালাহ উদ্দিন নানুপুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে যুক্ত করে কমিটির সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন করা হয়।

আহ্বায়ক কমিটি ‘অতি দ্রুত’ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে চলমান ‘অস্থির ও নাজুক’ পরিস্থিতির কথা বলা হলেও তা কী সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান বাবুনগরী।

হেফাজতে ইসলামের ফেইসবুক পাতায় এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় বিবৃতিটি পড়েন তিনি। আর এ বিষয়ে তিনি আর কিছু বলেননি।

প্রসঙ্গত, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির ছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী।

তিনি গত বছর মারা যাওয়ার পর নানা আলোচনার মধ্যে গত ১৫ নভেম্বর সম্মেলনে বাবুনগরীকে আমির করে হেফাজতের ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছিল।

দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা হেফাজতের নেতারা গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতায় নেমে ফের আলোচনায় আসে। সংগঠনটির নেতা মামুনুল হক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তিনি হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পদ পাওয়ার পাশাপাশি ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদকও হন।

গত মাসের শেষ দিকে মোদীর সফরের বিরোধিতায় নেমে নতুন করে আলোচনায় আসে হেফাজত। সংগঠনটির বিক্ষোভ ও হরতালে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামে সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়।

এরপর অর্ধশত মামলার পর মামুনুলসহ হেফাজতের ডজন খানেক কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, হেফাজত নেতারা নাশকতার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা দখল।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম আগের কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি করলেও সহিংসতা ও তাণ্ডব বন্ধ হবে কিনা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার কুমিল্লা সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটি এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় সভায় এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “গতকাল (রোববার) হেফাজতে ইসলাম তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করছে, তবে শুধু বিলুপ্ত করলেই হবে না। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার রাজনীতিও বিলুপ্ত করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতার তান্ডব কী বন্ধ হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.