হাওর এবং সমস্যা সংকুল যাপিত জীবন

আবিদ হোসেন  

সমস্যা সংকুল যাপিত জীবন-জীবিকার প্রাণান্ত প্রচেষ্টার প্রতিযোগিতায় হাওরের সংগ্রামী জনগোষ্ঠী। উন্নয়নের মহাযজ্ঞে হাওর কৃষি অর্থনীতিতে কেবলই পূঁজিবাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। আপাত চক্চকে-ঝক্ঝকে উন্নয়ন অবকাঠামোর আড়ালে হাওরের জীববৈচিত্র-পরিবেশের স্বাভাবিক বিকাশের বিনাশ ঘটছে। পরিশ্রমী জীবিকা-সংগ্রামী মানুষগুলোর স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার উপায়গুলো আরো কঠিনতর হচ্ছে।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ এই ৭টি জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলকে হাওরাঞ্চল বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৭৬২ সালের এপ্রিল মাসে ৮.৮ মাত্রা এক ভূমিকম্পে ডাউকি ফল্টের চ্যূতির কারণে মধুপুর গড় এবং হাওর এলাকার সৃষ্টি হয়। এরপর ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা নদী তার গতিপথ বদলায়। এসব কারণে এই বিস্তীর্ণ এলাকা বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার চাইতে ভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।

বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২৩০০ মি.মি. কিন্তু উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হার অনেক বেশি। সিলেটে বছরে ৪০০০ মি.মি. এবং সুনামগঞ্জে ৫০০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের চাইতে প্রায় ১৫ গুণ ভারতীয় এলাকার বৃষ্টিপাতের পানি বয়ে যায় বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল, খাল-বিল-হাওরে। ভারতের মেঘালয় ও বরাক উপত্যকার বৃষ্টির পানি সবার আগে সুনামগঞ্জের হাওরের দিকে ধাবিত হয় এবং এসব এলাকা পূর্ণ করে তারপর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে।

হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ৭ জেলার মোট ৭০টি উপজেলার মধ্যে ৪৮ টি উপজেলা হাওর এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এসব জেলার ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬১ হেক্টর নিয়ে হাওর এলাকা। জেলাগুলোর জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার।

সমস্যা সংকুল হাওরবাসী

বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকার সমস্যা-সংকট যেন জীবনেরই অংশ। প্রায় প্রতিবছরই উজানের পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা কবলিত হয়ে পরিবেশ ও জীবন-জীবিকাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। হাওর অঞ্চলের কৃষিজমি বছরে ৬ মাস জলমগ্ন অবস্থায় থাকে। বাকি ৬ মাস একমাত্র ফসল বোরো ধানের উপরে নির্ভর করতে হয় কৃষিজীবী হাওরবাসীর। হঠাৎ আগাম বন্যায় বোরো আবাদ তলিয়ে গিয়ে, প্রধান নদী ও খালসমূহের পানি ধারণ ক্ষমতা কমে-শুকিয়ে পানি নিষ্কাশনের সময়কাল দীর্ঘ হওয়ায় বোরো চারা/বীজ রোপনেও দেরি হয়ে যায়। নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় সেচের সমস্যা মোটামুটি স্থায়ীরূপ নিয়েছে।

বিস্তীর্ণ হাওরের ভেতরে শুকনো মৌসুমে যাতায়াতের ব্যবস্থা, রাস্তা না থাকায় ফসল কেটে ঘরে তোলা খুবই কষ্টকর এবং ব্যয়বহুল। স্থানীয় কৃষি শ্রমিকের সংকট থাকায় অন্য জেলার শ্রমিকরা হাওরে গিয়ে ধান কাটেন। হঠাৎ আগাম বন্যা হলে ধান কাটার সময় পায় কম। তখন দ্রুত ধান কাটার জন্য চড়া দামে মজুরি দিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। সরকারি বাজার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষি বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। হাওরে প্রতিবছর বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন অসংখ্য কৃষক। নিহত কৃষকের পরিবারের কোনো ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারগুলো দুঃসহ জীবনযাপন করে।

৬ মাস জলমগ্ন হাওরগুলো প্রাকৃতিক মৎস্য ভাণ্ডার। কৃষি জমির মালিক হয়েও জলমহাল হওয়ার পর মাছ ধরার অধিকার থাকে না কৃষকের। জাতীয় জলমহাল নীতিতে প্রত্যেক মৎস্যজীবীকে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যভুক্ত হতে হয়। তবে সমিতিগুলো ক্ষমতাশীল দলের লোকজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আর সদস্য হওয়ার জন্য দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা। তার ফলে অসংখ্য প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য হতে পারেন না। অপরদিকে সরকার মৎস্যজীবী সমিতিকে জলমহাল ইজারা দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ইজারাদাররাই নিয়ন্ত্রণ করে সমগ্র হাওরের মাছ ধরার অধিকার। প্রভাবশালী, দুর্বৃত্ত ইজারাদারদের দৌরাত্বে ‘জাল যার জলা তার’ এই নীতি হাওরের জন্য নয়।

সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির জন্য ৫০ থেকে ৭০% ভর্তুকি দিচ্ছে। হাওরাঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে হাওরে বোরো ধান কাটার হারভেস্টর মেশিনসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণভাবে কৃষকরা হারভেস্টর মেশিনে দ্রুত ধান কাটার সুফল ভোগ করলেও এসব মেশিনের মালিক কৃষক না। মুষ্টিমেয় বড় কৃষক এবং অর্থশালী ব্যক্তিরা ৭০% ভর্তুকি নিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি বা ধান কাটার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় এবং অন্যান্য জেলার কৃষি শ্রমিকদের বছরের প্রধান আয়ের উৎস সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষি শ্রমিক বেকার হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বৃক্ষ নিধন হচ্ছে ব্যাপক। ফলে ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন হুমকির মুখে পড়ছে।

মানব সম্পদ সম্মৃদ্ধ হাওর

সারাদেশে শ্রমশক্তি ৫৮.৭৪%। হাওরাঞ্চলের মানবসম্পদ ৬১.৮৪%। হাওরের মানবসম্পদের মধ্যে ৫৩.৬৭% কৃষি শ্রমশক্তি। এছাড়া ব্যবসা ১২.৫২%, চাকরি ৫.৬৫%, মৎস্য ২.৫৯%, পরিবহন ২.৩৯%, প্রবাসী ৩.৪১, অন্যান্য শ্রমিক ৬.১৩%। জাতীয় আয়ের ৬-৮% হাওর থেকে যোগ হয়। ২০০১ সালের পরিসংখ্যানে মোট জনসংখ্যা ১৯.৩৭ মিলিয়ন ২০২০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২১.৩৮ মিলিয়ন। ২০৩০ সালে হবে প্রায় ২২.৯২ মিলিয়ন।

হাওরের জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র ধান আর মাছ দিয়েই অর্থনীতিতে অবদান রাখে না- হাঁস, গবাদিপশু, ডিম, দুধ, মাংসেরও এক বিরাট ভাণ্ডার এ হাওরাঞ্চল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সহিদুজ্জামানের মতে, দেশের মোট হাঁসের ২৪% পালন হয় হাওরে। বছরে ৯৮৯ মিলিয়ন ডিম, ০.৬২ মিলিয়ন টন দুধ, ০.১৪ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন হয় হাওরে। হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০ বছর মেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ২৩২৬ মিলিয়ন ডিম, ১.৪৬ মিলিয়ন টন দুধ, ০.৩৩ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদিত হবে। এ থেকে ধারণা করা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে হাওরের মানব সম্পদ কত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রথমেই মানবসম্পদের সার্বিক উন্নয়ন কঠামো তৈরি করতে হবে।

জীববৈচিত্র্য-পরিবেশ ধ্বংসের অদূরদর্শী উন্নয়ন

সরকার ২০ বছর মেয়াদী হাওর মাস্টার প্ল্যান করেছে। স্বল্পমেয়াদী (১-৫ বছর, ২০১২-১৭) মধ্যমেয়াদী (৬-১০ বছর, ২০১৮-২২), দীর্ঘ মেয়াদী মহাপরিকল্পনার জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ১৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে যুক্ত থাকবে। প্রকল্পের অধীনে হাওরের পানি ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যাতায়াতের জন্য পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। পানির উৎসমুখ, প্রবাহের পথ, পানির স্থায়ী আঁধার নিয়ে এক সাথে পরিকল্পনা করতে হবে। সম্প্রতি ইটনা থেকে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত ২৯.১৫ কি.মি. সড়কবাঁধ নির্মাণ হয়েছে। এই সড়কবাঁধ হাওরবাসীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। এই সড়কবাঁধ তৈরির জন্য ৯১.৫২ হেক্টর জমি একোয়ার করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬৭৮.১৬ বিঘা জমি ধান চাষসহ বিভিন্ন কৃষিকাজের জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ অবস্থায় এই সড়ক বাঁধের জায়গার মধ্য দিয়ে হাওরের পানি অবাধে প্রবাহিত হতো। প্রতিবছর ৬ মাস পানি প্রবাহিত হয়ে ৬ মাসের জন্য মোটামুটি শুকিয়ে এ অঞ্চলের জমি ধান চাষ ও কৃষি কাজের উপযোগী হতো। কিন্তু এ সড়কবাঁধ এখন পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে কৃষিকে ব্যাহত করবে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিবে। কারণ ২৯ কি.মি. এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হাওরের পানি মাত্র ৭৮৮.৮৪ মিটারের মোট ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৭টি বক্স কালভার্ট, ৭টি ১৫৪.৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু, ৩টি গার্ডার সেতু দিয়ে প্রবাহিত করতে বাধ্য করা হবে। ২৯ কিলোমিটার জায়গার মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে সময় লাগতো গড়ে ৬ মাস। সড়কবাঁধের কারণে পানি প্রবাহিত হওয়ার সময়কাল বিলম্বিত হবে। পানিপ্রবাহ বিলম্ব মানে কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতি। তাই যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে পাকারাস্তা নির্মাণ না করে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। হাওরের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ প্রতিবেশ উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক নৌচলাচল ব্যবস্থা, ফ্লাইওভার ইত্যাদির মাধ্যমে হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা জরুরি।

মাস্টার প্ল্যানে কতক বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন, আগাম বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি কোনোভাবেই কৃষিকে যাতে ব্যাহত বা বন্ধ না করতে পারে, মাছ ও জলজ প্রাণীর অবাধ বিরচণ ও প্রজনন যাতে ব্যাহত না হয়, জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয়, গ্রাম ও জনপদ যাতে সংরক্ষিত থাকে, মানুষের জীবন-জীবিকার উপায়সমূহ যাতে নিশ্চিত থাকে।

হাওরের কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখা ও উন্নয়নের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী জলাশয়ের বাইরের বিশাল শুকনো এলাকা বছরের ৬ মাস কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়। কোনো বিশেষ কারণে এ জমি থেকে পানি সময়মতো সরে না গেলে কৃষিকাজ ব্যাহত হয় বা এক বছরের জন্য ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বছরের ছয় মাস কৃষিকাজ মোটামুটিভাবে স্থায়ী ব্যবস্থা করা সম্ভব। সে জন্য প্রয়োজন প্রতিটি নদী বা পানি বের করে দেওয়া খালের পানি পরিবহন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়া। প্রতিটি নদী ও খালের বেসিন ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করা। কোনো নদী বা খালের বেসিন ম্যাপ হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্টের ওপর দিকের যেসব অঞ্চলের বৃষ্টির পানি বা ঢলের পানি পরিবহন করে সেই পরিমাপক। বেসিনের পানির পরিমাপ সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত থেকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করতে হবে এবং সেই সাপেক্ষে নদী বা খালের পানি পরিবহন এমনভাবে নির্ণয় করতে হবে যাতে আগাম বর্ষা বা অতিবৃষ্টির পানি সংযুক্ত থাকে এবং মোটের উপর ৫% থেকে ২৫% পর্যন্ত পানি অতিরিক্ত ধারণ করতে পারে। নদী-খাল এমনভাবে খনন করতে হবে যাতে হাওরের পানি ২-৩ দিনের মধ্যে নেমে যায়। কিন্তু অপরিকল্পতিভাবে বাঁধ দেয়া এবং নদী-খাল খনন হাওরের পানি ব্যবস্থায় কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

সরকারের হাওরের অপরিকল্পিত, সমন্বয়হীন উন্নয়নের নামে নানান প্রকল্পের মাধ্যমে মূলতঃ হাওরের সমস্যা সমাধান না হয়ে জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র-পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। উন্নয়নের নামে চলছে ব্যপক লূটপাট, দুর্নীতি। হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধান কার্যকর উদ্যোগ ও করণীয় নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল যৌথভাবে ২০১৭ সালের ২০ মে এক হাওর কনভেনশন করে সরকারের কাছে সুপারিশনামা প্রদান করেছিল। বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি বিভিন্ন সময় হাওর অঞ্চলের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি করেছে। হাওরের সমস্যা কেবল কৃষিজমি বা জলাভূমির সমস্যা নয়। হাওরের সরলপ্রাণ পরিশ্রমী, সাহসী মানবসম্পদের জীবন-জীবিকার সমস্যা। হাওরের জীববৈচিত্র পরিবেশ-প্রতিবেশের সমস্যা। সকল সমস্যা একই সূত্রে গেঁথে সমাধান সূত্র বের করতে হবে। শুধুমাত্র হাওর উন্নয়নের নামে হাওরকে শহরে রূপান্তরের উন্নয়ন নয়। প্রয়োজন হাওর ও হাওরবাসীর জীবন-জীবিকার সার্বিক উন্নয়ন।

লেখক: সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.