হাওরাঞ্চলে নদীখনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি কৃষক সমিতির

হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, হাওর উন্নয়নের নামে অবাধ লুটপাট, দুর্নীতির ফলে বন্যায় কৃষকের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি।

১৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাড. এসএমএ সবুর ও সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাওরের উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড, হাওর উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করে অবাধে অর্থ লুটপাট করছে।

পানির উচ্চতা থেকে অনেক নিচু করে কোনোরকম দায়সারাভাবে বাঁধ নির্মাণ- মেরামত করার ফলে হঠাৎ বন্যায় পানির তীব্র চাপে বাঁধ ভেঙে এবং বাঁধ উপচিয়ে কৃষকের ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এবার বোরো ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকের আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। হাওর অঞ্চলের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে বোরো ধান। দেশের মোট ধানের এক পঞ্চমাংশ ধান হাওরে উৎপন্ন হয়। পাকা ধান কাটার আগেই বন্যার পানিতে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের জীবন-জীবিকা ব্যাপক হুমকির মুখে পরবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সারাদেশে বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে নদীখননের জন্য নানাবিধ প্রকল্প হাতে নিলেও হাওরের বন্যার পানিতে দ্রুত অপসারন হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট নদী-খালগুলো খনন হচ্ছে না।

যে সকল নদী-খাল খনন হচ্ছে খননের নামে মূলতঃ অর্থের লুটপাট হচ্ছে। নদীর বেসিন ঠিক না করে অপরিকল্পিতভাবে ও কৃষকের ফসলি জমি কেটে নেয়ার ফলে নদীগুলো আরো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের ফলে হাওরের প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। মাছের প্রজনন ও উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হাওরের প্রাণপ্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকা রক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, দ্রুত পানি নিষ্কাশণের জন্য নদী খননের দাবি জানান। একইসাথে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণ, বিএডিসির মাধ্যমে ভেজালমুক্ত সার-বীজ কীটনাশক সরবরাহের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.