স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিকিৎসা প্রয়োজন-১

লেলিন চৌধুরী

কোভিড-১৯ বা করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারীর আঘাতে বিশ্বের দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঠিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। করোনার তান্ডবে বিত্তশালী অনেক দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিশৃঙ্খলতায় পতিত হয়েছে। কম সম্পদশালী অনেক দেশ সীমিত সামর্থ্য নিয়ে করোনাকে রুখে দিতে পেরেছে। সুস্বাস্থ্য বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। একে অর্জন করতে হয়। শুধুমাত্র রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে নয় প্রতিরোধী কার্যক্রম দ্বারাই স্বাস্থ্য রক্ষা সম্ভব। রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গীর উপর স্বাস্থ্যসেবার সফলতা নির্ভর করে। যেসব দেশ স্বাস্থ্যকে পণ্য হিসাবে নির্ধারণ করেছে সেখানকার সাধারণ মানুষ সুস্বাস্থ্য থেকে অধিকতর বঞ্চিত। করোনার সুতীব্র আঘাতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জীর্ণ চিত্র প্রকটিত হয়েছে। তাই এই ব্যবস্থার সংস্কার এবং পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের প্রয়োজন।

একটি সময় ছিলো যখন মানুষের শরীরে কোন ধরনের রোগ না থাকাকে স্বাস্থ্য বলা হতো। অর্থাৎ রোগমুক্ত বা নীরোগ থাকা এবং স্বাস্থ্যবান হওয়া পারস্পরিক সমার্থক ছিলো। ক্রমান্বয়ে রোগমুক্ত থাকার সাথে শরীরের সমন্বিত বিকাশ ও ভালো থাকার জন্য পুষ্টি, শরীরচর্চা, বিশ্রাম ইত্যাদির ধারণা যুক্ত হলো। কিন্তু দেখা গেল পুষ্টি, শরীরচর্চা এবং বিশ্রাম পর্যাপ্ত থাকা পরও মানসিকভাবে ভালো না থাকলে মানুষের শরীর ভালো থাকে না। আবার সামাজিকভাবে শান্তিতে বা স্বস্তিতে না থাকলে একজন মানুষের জন্য মানসিকভাবে এবং চূড়ান্তভাবে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব নয়। এরকম ভালো না-থাকার কারণেই প্রধানত মনো-দৈহিক অসুস্থতা তৈরি হয়। সমস্ত দিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্যের একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হলো। সেটা হলো— রোগমুক্ত থাকার সাথে সাথে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে পরিপূর্ণ ভালো অবস্থায় থাকাই হলো স্বাস্থ্য। সকল সদস্য দেশের সম্মতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ধারণাটি গ্রহণ করে। এরফলে স্বাস্থ্য যে চূড়ান্তভাবে একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় সেটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা পায়। সাধারণ মানুষকে সামাজিকভাবে ভালো রাখতে হলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী ও শাসনব্যবস্থার ধরনের পাশাপাশি সুশাসনও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষা এবং সেই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্র কিভাবে প্রদান করবে মূলত সেটা নির্ভর করে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর উপর। আজকের পৃথিবীতে স্বাস্থ্যসেবা তিনভাবে প্রদান করা হয়। পৃথিবীর বেশকিছু রাষ্ট্রে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার পুরো দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করে। অনেক দেশে স্বাস্থ্যসেবার একটি অংশ সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং বাকি অংশ বেসরকারিখাতে পরিচালিত হয়। কিছু রাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা মূলত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও তার দেখভালের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত। দেশের মানুষকে এই সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার নিজে হাসপাতাল ও নানা ধরনের স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। স্বাধীনতার পর দেশের স্বাস্থ্য সেবা প্রধানত রাষ্ট্রায়ত্ব ধারায় প্রবাহিত হচ্ছিলো। কিন্তু ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দর্শনের পরিবর্তন হয়। তখন থেকেই মূলতঃ বেসরকারি সেবাখাতের উদ্ভব ও বিকাশের ধারণা তৈরি হয়। ১৯৮২ সালের ‘দি মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স ১৯৮২’-র মাধ্যমে দেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত ক্রমান্বয়ে বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যসেবার কমবেশি এক-তৃতীয়াংশ সরকারি খাত এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ বেসরকারি খাত দ্বারা পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কতোটা গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় তার একটি বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন। আমাদের মতো দেশগুলোতে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ হওয়া উচিত জিডিপির ৫% অর্থ। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ। কিন্তু গত একযুগের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায় এই খাতে জিডিপির (কিছুটা কমবেশি) ০.৯% অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সত্যিকার অর্থে এই পরিমাণ টাকা প্রয়োজনের তুলনায় বিস্ময়কর পরিমাণে স্বল্প। এরচেয়েও দুঃখজনক ব্যাপার হলো বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা ব্যয় করার সামর্থ্য দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। প্রতি বছর একটি প্রণিধানযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থাকার দরুণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়। দেশের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে মেরুদণ্ডের ভূমিকা পালন করে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য দক্ষ ও বিশেষায়িত জনবল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার এই জনবলকে কখনোই উদ্বুদ্ধ করতে সমর্থ হয়নি। ফলে এরা হতাশ, আত্মবিশ্বাসহীন এবং দিশাহীন মনোভাব নিয়ে জাতির স্বাস্থ্য রক্ষায় কর্মরত রয়েছে। দেশের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো স্বাধীন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। দেশের স্বাস্থ্য সেবার কতো ভাগ সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখা হবে এবং কতো ভাগ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রদান করা হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নীতিমালা বা কৌশলের ঘোষণা নেই। বেসরকারি হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নসহ তদারকির যাবতীয় কাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করে থাকে। কিন্তু বিশাল বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করার মতো সুসংগঠিত পরিকল্পনা, জনবল ও পেশাদারিত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেই। ফলে এইখাতে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। মূলতঃ পেশাদারিত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোথাও নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে জনবলের নিয়োগের দিকে লক্ষ্য করলেই পেশাদারিত্বের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠে। সাধারণত একজন অধ্যাপক (এনাটমি/ বায়োকেমিস্ট্রি/ মেডিসিন/ চক্ষুবিভাগ/অন্য যেকোন বিষয়/বিভাগ)-কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। একদিন আগে যিনি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ছিলেন, ছাত্র পড়াতেন অথবা রোগী দেখতেন বা অপারেশন করতেন পরের দিন তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন। বলা বাহুল্য, এই পদটি স্বাস্থ্য প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ। অন্য পরিচালকদের অধিকাংশের পদায়ন একই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। এখানে স্বাস্থ্য প্রশাসনে কাজ, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব একেবারেই নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব প্রমুখদের পদায়ন আরো চমকপ্রদভাবে হয়ে থাকে। গত সপ্তাহে যিনি কৃষি/ধর্ম/সংস্কৃতি/অন্য যেকোনো মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন এই সপ্তাহে তার পদায়ন হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে ধারণ না করেই তিনি স্বাস্থ্য সেবার অধিকর্তা হয়ে বসলেন। এবং মহাদাপটে আদেশ নির্দেশ দেয়া শুরু করলেন। স্বাস্থ্যের মতো একটি বহুমাত্রিক, বিশেষায়িত এবং স্পর্শকাতর বিষয় পরিচালনার জন্য এরকম ব্যবস্থা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকের দৃশ্যপট দেখা যাক। একজন তরুণ এমবিবিএস পাশ করে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেয়। তার চাকরিতে প্রবেশকালীন পদ হচ্ছে সহকারী সার্জন। স্থানভেদে এটি কখনো মেডিক্যাল অফিসার, লেকচারার অথবা অন্য কোন নামে পরিচিত হয়। এই তরুণ কর্মকর্তাটি সারাজীবন যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে চাকরি করে এবং বিভাগীয় সব পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে, পদোন্নতি পেয়ে পেয়ে কখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অথবা মন্ত্রণালয়ের সচিব হতে পারবেন না। ক্রমাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ কর্মকর্তাগণকেই সচিব, মহাপরিচালকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা আবশ্যক। এতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের পরিচালনা নিঃসন্দেহে অনেক যোগ্যতর ও ত্রুটিমুক্ত হবে। এরকম গ্রহণযোগ্য পন্থা অবলম্বন না করায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরতগণ যতোটা বঞ্চিত হয়েছে তারো চেয়ে অনেকগুণ বেশি বঞ্চিত হয়েছে এবং হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের নাগরিকগণের স্বাস্থ্যসেবা। আমরা প্রতিনিয়ত দেখে থাকি স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তারা নানারকম অবাস্তব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমার চাকরিকালে দেখেছি যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই সেখানে এক্সরে মেশিন দেয়া হয়েছে। গাড়ি চলার রাস্তা নেই সেখানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। এরকম নানা ধরণের কাহিনী নিয়ে উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা হাস্যরসে মেতে উঠতো। স্বাধীনতা অর্জনের এতো বছর পরেও আমাদের রাষ্ট্র স্বাস্থ্যসেবা খাতে পেশাদারিত্ব গড়ে তুলতে সমর্থ হয়নি। একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের বিশেষায়িত বিভাগগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাপ্রাপ্তদের দিয়ে পরিচালিত করতে হবে। এটি স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রকৌশল, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ধর্মসহ বিশেষায়িত সবগুলো বিভাগের জন্য সত্য। একটি রাষ্ট্রের সফলতার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে যোগ্য ব্যক্তিকে সঠিক জায়গায় স্থান দেয়া। তাহলেই সেই বিভাগে সবচেয়ে ভালো কাজটি বেরিয়ে আসবে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আমরা এখনো দেশব্যাপী সার্বজনীন করতে পারিনি। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মশার শরীরের সাথে তুলনা করা যায়। মশার পেট রক্ত খেয়ে ফুলে যায় কিন্তু বাকি শরীর শীর্ণ থাকে। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রধান অংশ রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। দুয়েকটি বড় শহর বাদে সারা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা দীর্ণ-শীর্ণ। এখনো অনেক জেলা হাসপাতালে আইসিইউ নেই। ঢাকার বাইরের একটি নামকরা বড় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা মহামারীকালে বেশ কয়েকটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা (রোগিকে দ্রুত অধিক পরিমাণে অক্সিজেন প্রদানের যন্ত্র) মহৎপ্রাণ কিছু মানুষ অনুদান হিসাবে প্রদান করে। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ লাইন না থাকায় হাসপাতাল সেগুলো ব্যবহার করতে সমর্থ হয়নি। এরকম অবস্থা ঠিক কতোগুলো (সরকারি/বেসরকারি) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিরাজ করছে সে হিসাব পাওয়াও কঠিন। কথাগুলো এই কারণে আসছে যে সারা দেশের মানুষের নিকট উন্নত চিকিৎসার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার কাজটি কখনো করা হয়নি। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাজেট বরাদ্দ বিস্ময়কর রকমের কম। দেশে এখনো স্বাস্থ্যসেবা বলতে মূলতঃ চিকিৎসাসেবাকে বুঝিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজেকর্মে চিকিৎসা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা পালন করে। কিন্তু চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে সেটিও অদক্ষ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। বাংলাদেশে সরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকগণ সকালে সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। এরাই আবার বিকালে নিজ ক্লিনিকে রোগী দেখেন। এটা সরকারি চাকুরী বিধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করে তারা তাদের প্রাপ্য সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। যেটুকু সেবা দেয়া হয় সেটা গ্রহণ করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ দুর্নীতি, অধিকার হরণ, অপমান ইত্যাদির শিকার হন। চিকিৎসায় অবহেলা হলে বা অবহেলাজনিত মৃত্যু হলেও মানুষের কিছু করার নেই। তাদের অভিযোগ জানানোর কোনো জায়গা নেই। অভিযোগ জানালে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে— এটাও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না। স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবা যারা দিয়ে থাকেন সেইসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রধান অভিযোগ তারা মারধরসহ নানাবিধ নির্যাতন সহ্য করে সেবা দিয়ে থাকেন। তাদের সুরক্ষা নেই। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়শই ভাঙ্গচুর চালানো হয়। এদেরকে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। সবমিলিয়ে দেশে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইনের মতো কোনো আইন নেই।

[লেখাটি পরবর্তী অংশে সমাপ্ত হবে]

লেখক : স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শিশু অধিকার কর্মী