“স্বাধীন শব্দটা এর আগে এতটা পরাধীন ছিল না”: পেন

‘‘স্বাধীন শব্দটা এর আগে এতটা পরাধীন ছিল না৷ পৃথিবীটা হয়তো আর ভালো হবে না৷”

আন্তর্জাতিক লেখক সংস্থা পেন, জার্মান সেন্টারের নব-নির্বাচিত ডেপুটি প্রেসিডেন্ট কর্নেলিয়া সেটৎশে এসব কথা বলেন।

এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক লেখক সংস্থা পেন বলছে, করোনা মহামারিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী লেখকরা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন।

স্বৈরশাসকেরা মহামারির বিধিনিষেধকে লেখকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

পেনের মতে, করোনা মহামারি অনেক দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ‘ভয়াবহ’ প্রভাব ফেলেছে৷

ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন) –এর এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

পেন –এর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, লেখক, সাংবাদিক এবং সমালোচকরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী করোনা মহামারিকালে৷

পেন জানাচ্ছে করোনা মহামারির সময় বিশ্বের অনেক দেশে লেখকদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ করা হয়েছে৷ বাংলাদেশ এবং ভেনেজুয়েলাতে ‘ভুয়া সংবাদ’ ছড়ানোর অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাংবাদিকদের৷ কাজাখস্তানে কবি আরন আতাবেক করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে মারা গিযেছেন৷

উগান্ডায় লেখক কাকওয়েনজা রুকিরাবাশাইজাকে কারাগারে নিযার্তনের পর জানুয়ারি মাসে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়৷

অনেক দেশে স্বৈরশাসকরা নির্মমভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করছে৷

মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেয়া কবি মিন্ত মিন্ত জিন এবং কে জা উইনসহ অন্তত পাঁচজন লেখক সামরিক জান্তা সরকারের হাতে নিহত হয়েছেন৷

২০২১ এর আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার পেন সদস্য আবদুল্লাহ আতেফি এবং দাওয়া খান মেনাপালকে গুলি করে হত্যা করা হয়৷

এদিকে দমন এবং বল প্রয়োগের নীতি দেখা গেছে বাংলাদেশ, মেক্সিকো এবং লেবাননে৷

টিগ্রেতে সেখানকার দ্বন্দ্ব নিয়ে যেসব সাংবাদিক রিপোর্ট প্রকাশ করছিলেন, তাদের হয়রানি এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

ইউরোপেও ঘটেছে এমন ঘটনা৷ গত বছরের জুলাইতে আমস্টারডামে ডাচ ক্রাইম রিপোর্টার পিটার আর ডি ফ্রাইসকে গুলি করে হত্যা করা হয়৷ পরে পুলিশ জানায়, একটি অপরাধী চক্রের দলনেতার বিরুদ্ধে এক মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল ফ্রাইসের৷

পেনের নতুন এই রিপোর্টে চীন, তুরস্ক, মিশর এবং ইরানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে৷ এসবদেশে বহুদিন ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেন৷

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লেখকদের দমন-নিপীড়নের পিছনে একইধরনের যৌক্তিকতা কাজ করে বলে পেনের ‘রাইটার্স ইন প্রিজন কমিটি’কে জানিয়েছেন সেটৎশে৷ কখনো কখনো লেখকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তারা দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ৷ আবার কখনো তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ আনা হয়৷ সেটৎশে বলেন, ‘‘লেখকদের বিরুদ্ধে সব জায়গায় একইধরনের অভিযোগ আনা হয়৷ দমনের অস্ত্র সবসময় এক৷”

সূত্র: ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.