প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং অবিলম্বে ভোট ডাকাতির সরকারের পদত্যাগ দাবিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

৩০ ডিসেম্বর ‘কালো দিবসে’র প্রাক্কালে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটি দেশবাসীর কাছে গত বছর ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর নৈশকালীন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হঠানোর সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর)  জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফখরুদ্দিন কবির আতিক, ইউসিএলবি’র সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মনিরউদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লব পার্টির লিয়াকত আলী। আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, বাসদ-এর রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র আলমগীর হোসেন দুলাল, গণসংহতির বাচ্চু ভূঁইয়া।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদ ও সরকার এক বছর পার করেছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সরকার ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোট জালিয়াতির এক চরম কলঙ্কজনক নজির স্থাপন করে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়েছে। ভোটের নামে এসব ছিল এক ধরনের প্রশাসনিক ক্যু।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিনের ভোট রাতে কেটে নেয়ার ঘটনা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। সরকারের শরিক দলের নেতৃবৃন্দও বক্তৃতা-বিবৃতিতে সাক্ষ্য দিয়ে বলছেন যে, ৩০ডিসেম্বর ২০১৮ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কেউ কেউ ভোট কেটে নেয়ার হোতাদের বিচারও দাবি করেছেন। ভোটের ৬ মাস পর নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত তথ্য থেকেও সীমাহীন অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনেক কেন্দ্রে শূন্য ভোট, আবার অনেক কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়ার আজগুবি তথ্য দেয়া হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, ভোট ডাকাতি ও ভুয়া নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠিত এই সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা বলে কিছু নেই। বাস্তবে সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গায়ের জোরে সরকার তার অবৈধ ও অনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানসমূহের পেশাদারি কর্তব্য ও নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করে সরকারি দলের অনুগত বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। এভাবে সরকার গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র চরম নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যে ব্যবস্থায় এখন দেশ চলছে, তা পূর্ববর্তী সব লুটেরা বুর্জোয়া ধারার সরকারের আমলেও কায়েম ছিল। জনগণ আগাগোড়াই শোষণ, বঞ্চনা, দুর্নীতি, গণতন্ত্রহীনতা, ভোটাধিকার হরণের শিকার হয়েছে। সেকারণে সরকার বদল হওয়া সত্ত্বেও ‘ব্যবস্থা’ বদল না হওয়ায় জনগণের দুর্গতির ক্ষেত্রে কোনো মৌলিক হেরফের ঘটছে না। তাই, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসানের পাশাপাশি বর্তমান লুটপাট ও বৈষম্যের ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করা আজ অপরিহার্য। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে ভোট ডাকাতির সংসদ বাতিল, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান। আওয়ামীফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ আগামীকাল প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এবং ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হওয়ার জন্য দেশবাসী ও ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার ‘কালো দিবসে’র কর্মসূচি

* কেন্দ্রীয় কর্মসূচি : সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীরকার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা বিক্ষোভ মিছিল।

* প্রতিটি জেলা শহরে ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয়’ এর সামনে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ সমাবেশ।

* বাম গণতান্ত্রিক জোটের সদস্য, সমার্থক, শুভানুধ্যায়ীদের কালো ব্যাজ ধারণ।

* বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক সকল দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা কার্যালয়ে কালো পতাকাউত্তোলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.