সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’; ১০১ নাগরিকের বিবৃতি

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছে দেশের ১০১ বিশিষ্ট নাগরিক।

চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে সরকারের কাছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সিআরবিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করার আহ্বানও জানান ১০১ নাগরিক।

গত শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন, পাহাড় ধ্বংস করে বন্দরনগরীর ফুসফুসখ্যাত চির সবুজ সিআরবিতে শুধু হাসপাতালই নয়, কোনো ধরনের স্থাপনা করা সমীচীন হবে না।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “অবিভক্ত ভারতের বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম রেলওয়ের সদর দপ্তর সিআরবি ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৮৯৫ সালে। শতবর্ষী বৃক্ষ ঘেরা পাহাড়, টিলা ও উপত্যকা ঘেরা এলাকাটি জনসমাগমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

“আশেপাশের পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর আবাস। শিরীষ গাছের তলায় প্রতি বছর হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান; বসে মেলা, চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বলী খেলা। পাহাড়ের মাঝে প্রাকৃতিক শোভা মন্ডিত এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করতে গেলে শতবর্ষী অনেক গাছ কাটা পড়ার পাশাপাশি এখানকার সবুজ নিসর্গ ধ্বংস হয়ে যাবে।”

বিবৃতিতে নাগরিকরা বলেন, “হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুর রবের কবর, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই মাটি শহীদের স্মৃতিধন্য। এই সিআরবিতে অনেকে শহীদ হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। রেলের অনেক শ্রমিক কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন।

“বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে এই সিআরবি তথা পাহাড়তলী ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। সেইসব স্মৃতি সংরক্ষণে রেল উদ্যোগ নেয়নি। অথচ শহীদের কবর, শহীদের নামে কলোনি, শহীদের নামে যে সড়ক সেই জমি তারা বেসরকারি হাসপাতালকে বরাদ্দ দিয়েছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৮ক ধারা অনুসারে রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে।

“সিআরবি এলাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলেছে সিআরবিতে যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা মাস্টারপ্ল্যানের লঙ্ঘন। সেখানে সিআরবির মতো হেরিটেজকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে”।

বিবৃতি দাতাদের মধ্যে আছেন- সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফি, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, আইনজীবী, চিকিৎসক, নাট্যজন, কবি, কথা সাহিত্যিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, পরিবেশবাদী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন কর্মী, নারীনেত্রী ও রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.