সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস: সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন রুখে দেয়ার প্রত্যয় ছাত্র ইউনিয়নের

১ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভিয়েতনাম সংহতি মিছিলে গুলি বর্ষণে নিহত শহীদ মতিউল ইসলাম এবং শহীদ মির্জা কাদের এর স্মরণে মতিউল-কাদের চত্বরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারী) সকাল ৮টায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবসের ৪৭তম বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের প্রেসিডিয়াম সদস্য তসলিম শাখাওয়াতসহ অন্যান্য গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত আলোচনা সভায় সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল।

সভায় কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমাদেরকে শত্রু চিনতে হবে। মার্কিন সাম্রাজ্য কখনই আমাদের বন্ধু ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের কিছুদিন আগেও তারা সপ্তম নৌ বহর পাঠিয়ে আমাদের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্থ করতে চেয়েছিল। ঠিক একই কায়দায় এখনও তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়ে ঠিক করে কোথায় কোন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করবে। তাদের অনুগত দাস দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তারা নয়া উপনিবেশিক কায়দায় সারা বিশ্ব পরিচালনা করতে চায়। আমাদের সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যের আগ্রাসনকে রুখে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সমাজতন্ত্র ক্রমশই যখন সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৫ সাল থেকেই ভিয়েতনাম এর মুক্তিকামী মানুষ হো চি মিন এর নেতৃত্বে সশন্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়। বছরের পর বছর সেখানে গেরিলা যুদ্ধ চলে। ভিয়েতনামের মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায় সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন সামরিক শক্তি। নাপাম বোম সহ নানান পরীক্ষামূলক রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগে লাখো লাখো মানুষ ও ফসলের ক্ষেত ধ্বংস করা হয়। এর প্রতিবাদে সারাবিশ্বে এমনকি খোদ আমেরিকা ও ইউরোপে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। যার ফলে নয় মাসের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরের নতুন করে প্রতিবাদ করা অবধারিত হয়ে ওঠে। যার ফলস্বরূপ ১ জানুয়ারি ১৯৭৩ এ ভিয়েতনাম সংহতি মিছিল আহ্বান করা হয়। মতিঝিলস্থ আমেরিকান দূতাবাস এ স্মারকলিপি প্রদানের জন্য মিছিলটি প্রেসক্লাব এর বিপরীত দিকে আমেরিকান ইনফরমেশন সেন্টারের সামনে পৌঁছলে কোন রকম উস্কানী ছাড়া পুলিশ গুলি বর্ষণ করতে থাকে। মিছিলে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মতিউল ও কাদেরের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। পরেরদিন বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। সরকার হটকারী প্রেস রিলিজের মাধ্যমে সরকার সব দোষ ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেয়। সারাদেশে সরকার ও সরকারি দলের হামলা প্রতিবাদ ও আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। দুবার আন্দোলনের ফলে ভিয়েতনাম এর বিপ্লবী সরকারকে বাংলাদেশ প্রথম অ-কমিউনিস্ট দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়। আমেরিকায় ইনফরমেশন সেন্টার সরিয়ে নেওয়া হয়।

সভায় সমাপনী বক্তব্যে মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, সাম্রাজ্যবাদী দানবদের দেশীয় প্রতিনিধিরা আজ গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাই সাম্রাজ্যবাদের এই প্রতিনিধিদের সর্বাত্মক নির্মূল করে, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মতিউল- কাদেরের স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করবে বলে আমরা ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতি জ্ঞাপন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.