সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি

সাম্প্রদায়িক হামলা ও প্রতিমা ভাংচুরের বিরুদ্ধে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসাথে নাগরিকবৃন্দ এই সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও জনসমাজকে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল (১৮ অক্টোবর) সোমবার ২৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নাগরিকবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতেও দেখা গেছে, নানা সময়ে ধর্মকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ফায়দা লোটা হয়েছে। ঐসব ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়নি। এমনকি কোথাও কোথাও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই বিচারহীনতা আবার অপরাধ সংগঠিত করতে মদদ জুগিয়েছে।

বিবৃতিতে নাগরিকবৃন্দ বলেন, এইসব অপশক্তি এখনও তৎপর। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে বিভিন্ন সময়ে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগ্রাম জোড়দার করে মানবিকতার সংগ্রামকে সামনে আনা হয় নি। শুধু বাংলাদেশ নয় প্রতিবেশী দেশগুলিকেও আজকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি হিসাবে গড়ে তোলা যায় নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত ও এর পেছনের হোতাদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তর দাবি জানাই। একই সাথে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

নাগরিকবৃন্দ বলেন, ধর্মকে অপব্যবহারের যে কোন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিদ্বেষী সকল অপশক্তিকে প্রশ্রয় না দেওয়া, জঙ্গী-ধর্মভিত্তিক শক্তির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে নীতি-নিষ্ঠভাবে সংগ্রাম পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র ও জনসমাজকে সম্মিলিতভাবে আজ এ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ৫০ বছরের বাংলাদেশকে আমরা পেছনের দিকে নিয়ে যেতে দিতে পারি না। তাই এ ধরণের অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশের সর্বত্র মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির পক্ষের সকল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তি, ব্যক্তি ও প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষদের সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে সম্মতি জানিয়ে যে ২৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন –মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল, প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডাঃ সারোয়ার আলি, মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবীর, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড: সেলিম জাহান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদষ্টা  রাশেদা কে চৌধুরী, বিএমএ’র প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ রশিদ ই মাহবুব, ড: মইনুল ইসলাম, ইউজিসি’র প্রাক্তন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড: আবুল বারকাত, সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, রীব’র নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা, জাহাঞীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রো-উপাচার্য ডঃ তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড: সুশান্ত কুমার দাশ, অধ্যাপক বদিউর রহমান, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম, এলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  মাহমুদ সেলিম, খেলাঘরের নেতা ডাঃ লেনিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী ও অধ্যাপক এম এম আকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.