সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে করোনা মোকাবেলায় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি বাম জোটের আহ্বান

সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা মোকাবেলায় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার বলে মনে করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ জন্য সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করে সবার মতামত নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়,  দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দের এক ভিডিও কনফারেন্স থেকে এ আহ্বান জানান।

ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে বর্তমানে দেশের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট, সরকারের উদ্যোগহীনতা, শ্রমজীবী-হতদরিদ্র মানুষের দুর্দশা, জোটের করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন ও মতামত দেন বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহিদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী কমরেড জুনায়েদ সাকী।

নেতৃবৃন্দ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই সরকার এ মহামারীকে গুরুত্ব না দেয়ায় গত ৩ মাসেও তেমন কোন প্রস্তুতি যে নেয়নি তা দেশের একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা এবং সেখানকার মুখপাত্র আক্রান্ত ও মৃতের যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। দেশবাসী সরকারি ঐ ভাষ্য একদমই বিশ্বাস করছে না।

বাম জোট নেতৃবৃন্দ পুনরায় সারাদেশে অন্তত প্রত্যেক জেলায় করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করে রেনডমভাবে পরীক্ষা করে সঠিক তথ্য জনগণকে জানানো এবং সচেতনতা গড়ে তোলে প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, তথ্য গোপন করে বরং বিপদকে বাড়িয়ে দেয়া হবে। এতে জনগণ অসতর্ক থাকবে এবং অপঘাতে মৃত্যু ঘটবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, তথ্য গোপনও নয় অতিরঞ্জিত ভয় দেখানোও নয় সঠিক তথ্য জানলে বরং দেশবাসী সতর্ক হতে পারবে সচেতন হতে পারবে।

বিবৃতিতে বাম জোট নেতৃবৃন্দ চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবীদের সুরক্ষা না থাকায় সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। নেতৃবৃন্দ ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসাসেবাকর্মী সকলের সুরক্ষা সামগ্রী এবং ঝুঁকি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ পুনরায় বলেন, সব হাসপাতালে করোনা কর্ণার বা ওয়ার্ড নয় করোনার চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, প্রয়োজনে আর্মি স্টেডিয়ামসহ সকল জেলা-উপজেলা স্টেডিয়ামে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ করতে হবে।

বাম জোটের নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, দেশে দুই কোটির উপর শ্রমজীবী হতদরিদ্র মানুষ আজ করোনা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবে গৃহবন্ধি অবস্থায় কর্মহীন হয়ে খাদ্যাভাব ও নগদ অর্থ সংকটে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিনই সংবাদপত্রে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর বেরুচ্ছে সরকারের সাধারণ ছুটিতে মানুষ ঘরে বসে থাকতে চাইছে না তারা বলছে করোনায় যেমন ভয় আছে তেমনি ঘরে বসে থেকে তো না খেয়ে মরতে হবে।

বিবৃতিতে করোনা পরিস্থিতিতে এবং এর পরে যেন কারো কর্মচ্যুতি না ঘটে তার জন্যও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন।

বিৃবতিতে বলা হয়, সরকার কিছু ত্রাণ বিতরণের কথা বলছে যা খুবই অপ্রতুল এবং বিশৃঙ্খল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমলা-প্রশাসন ও দলীয় লোকদের মাধ্যমে এসব সহায়তা বিতরণের ফলে সকলে এই সহায়তা পাচ্ছে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই সহায়তা আরো বাড়ানো এবং সর্বদলীয় কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করতে হবে যাতে সকলেই খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা পায়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারী বৈশ্বিক। বাংলাদেশ পূর্বে গুরুত্ব না দিয়ে ভুল করেছে, এখনও যদি দলীয় অহমিকা নিয়ে একগুয়ে মনোভাব ব্যক্ত করে সকলকে যুক্ত করে এই মহামারী মোকাবেলায় উদ্যোগ নেয়া না হয় তাহলে জাতিকে মারাত্মক খেসারত দিতে হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। তাই একগুয়েমী পরিহার করে সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের বৈঠক করে সকলের মতমাত নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি করে এ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে সকল মত-পথের চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, গবেষক ও ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ জন্য বাজেট পুনর্বিন্যাস করে প্রয়োজনে এডিপি কাটছাট করে করোনা চিকিৎসা, দরিদ্রজনগোষ্ঠীর খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করার দাবি জানানো হয়।