সরকার মানুষকে অনিশ্চিত গন্তব্যে ঠেলে দিচ্ছে: সিপিবি

দেশে করোনা সংক্রমণের হার যখন ব্যাপকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ও আতঙ্কজনক, সেই পর্যায়ে অফিস, প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহণ চালুর সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকারের ব্যর্থতা আর খামখেয়ালিপনার জন্য দেশের মানুষের জীবন এখন চরম হুমকির মুখে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ এবং দেশের স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে সরকার অফিস, প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে গণপরিবহণ চালু করার বিস্ময়কর ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির হারের কারণে যখন কার্যকর লকডাউন প্রয়োজন, তখন সরকার তার উল্টোদিকে হাঁটছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সরকার মানুষকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গতকাল অনলাইনে অনুষ্ঠিত ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স টিমে’র সভায় সিপিবির নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, মিহির ঘোষ, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা-সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকার অদূরদর্শিতা, ব্যর্থতা, দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে। লুটেরা শাসকশ্রেণির জনবিচ্ছিন্ন সরকার জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির যথাযথ সমন্বয় সাধন করে সংকট-মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের জীবন আর জীবিকাকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার তার ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। জনস্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা যখন কারফিউ জারির মতো পরামর্শ দিচ্ছেন, তখন জনস্বাস্থ্যের বিষয় উপেক্ষা করে সরকার দেশবাসীকে কার্যত অনিশ্চিত, ভয়ংকর ‘হার্ড ইমুউনিটি’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মালিকশ্রেণির মুনাফার স্বার্থ ও চাপে, আমলাতন্ত্রের দাবি-পরামর্শ ইত্যাদির ওপরে নির্ভর করে, সরকার একের পর এক আত্মঘাতী ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অফিস, প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহণ চালুর বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ‘সাধারণ ছুটি’র নামে ঢিলেঢালা ভাব নয়, অবিলম্বে কঠোর ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে হবে। তার জন্য নিরন্ন মানুষের ঘরে ঘরে প্রয়োজনে সেনা-সহায়তায় খাবার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। লুটপাটকারীদের পকেট ভারী না করে, অভুক্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ‘সবকিছু ঠিকঠাক’, ‘আমাদের তৎপরতা অভিনন্দনযোগ্য’ এসব বাগাড়ম্বর না করে, করোনা-সংকট মোকাবিলায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের জনস্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্বে থেকে সামাজিক সংহতি গড়ে তুলে জনগণের নিজস্ব নাগরিক কমিউনিটি গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান জনস্বাস্থ্যের সংকট দূর করতে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।