‘সরকারের ভাত দেয়ার মুরদ নাই, কিল দেয়ার গোশাই’

‘সরকারের ভাত দেয়ার মুরদ নাই, কিল দেয়ার গোশাই’।  

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থানরত তাজরীন ফ্যাশনের আহত শ্রমিক এবং ঢাকা ইপিজেড’র এ-ওয়ান কারখানার শ্রমিকদের ওপর গভীর রাতে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।

আজ (৭ ডিসেম্বর) সোমবার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। বিপুল সংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কদমফুল ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে তাজরীনের আহত শ্রমিকদের ৩ দফা বাস্তবায়ন এবং এ-ওয়ান শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তি দাবি করা হয়।

তাজরীন কারখানার অগ্নিকান্ডে আহত শ্রমিক জরিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শামীম ইমাম, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সবুজ, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু, এ-ওয়ান কারখানার শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, ওএসকে গার্মেন্ট এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহামুদ হোসেন, গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্ত, বাংলাদেশের সোয়েটার গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এএএম ফয়েজ হোসেন প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিকের ওপর পুরুষ পুলিশ রাতের আঁধারে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পরেছিল। সমাবেশে আহত শ্রমিকরা জানান, পুলিশের হামলা থেকে তাজরীন অগ্নিকান্ডে পঙ্গু শ্রমিক, নারী শ্রমিক এমনকি শিশুরাও রেহাই পায়নি।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের এই দীর্ঘ আন্দোলনে সরকার কর্ণপাত করেনি। তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু, অনাহারি শ্রমিকদের ওপর নির্দয়-নিষ্ঠুর হামলার মধ্য দিয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ দমনের পথ গ্রহণ করেছে। বক্তারা সরকারের এই ফ্যাসিবাদী ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে অবিলম্বে তাজরীন শ্রমিকদের তিন দফা বাস্তবায়ন ও এ-ওয়ান শ্রমিকদের ১১ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকরা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে। সেই আন্দোলন অসহায় শ্রমিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে তাদের রক্ত ঝরানোর বিচার আদায় করবে।

উল্লেখ্য, তাজরীন কারখানার আহত শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের দাবিতে দীর্ঘ আশি দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল। অন্যদিকে এ-ওয়ান কারখানার শ্রমিকরা ১১ মাসের বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে আশুলিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন আন্দোলন করার পরে গত প্রায় ৬ দিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। গত ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাদের ওপর হামলা এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের অবস্থান থেকে উঠিয়ে দিয়েছে।