সমতলের আদিবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি

আদিবাসী ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন

সমতলের আদিবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দসহ খাদ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন।

আজ (১১ জুন), শনিবার, সকাল ১১টায়, মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেনের সভাপতিত্বে ও আদিবাসী নেত্রী রাখী ম্রং-এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ধারণাপত্র পাঠ করেন লেখক, গবেষক পাভেল পার্থ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, আদিবাসী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, উপদেষ্টা আলতাফ হোসেন প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন- আসলাম খান, তারিক হোসেন মিঠুল, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, দীপক শীল প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের সকল দাবি-দাওয়ার প্রতি সিপিবির পক্ষ থেকে সংহতি জানিয়ে পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সংবিধানে বৈষম্য দূর করার কথা রয়েছে। অথচ আদিবাসীরা চরম বৈষম্যের শিকার। আদিবাসীদের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে সরকারের। তিনি পার্বত্য অঞ্চলসহ সমতলের আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানান।

সংগঠনের সভাপতি রেবেকা সরেন বলেন, সমতলের আদিবাসীরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। বাজেটে যতটুকু বরাদ্দ থাকে তা কখনই আদিবাসীরা পায় না। আর সমতলের আদিবাসীরা আরও বেশি বঞ্চিত হয় বাজেট বরাদ্দ থেকে। তিনি আরও বলেন, আদিবাসীদের ভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাগদা ফার্ম থেকে সমতলের পুরো অঞ্চল জুড়ে এই ভূমি দখলের বিরুদ্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।

ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, বাজেটে আদিবাসীদের জন্য কি বরাদ্দ আছে তা খুঁজে বের করা দুরূহ। তিনি শোষিত আদিবাসীদের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও তার সুষ্ঠু ব্যবহারের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন, দখল-উচ্ছেদ চলছে, এসব ঠেকাতে হবে। বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং বরাদ্দে লুটপাট বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাভেল পার্থ উল্লেখ করেন যে, বাজেটে প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন হয় না। অথচ আদিবাসীরা গৌরবোজ্জল লড়াই-সংগ্রামের অধিকারী। পার্বত্য অঞ্চলে যে বাজেট বরাদ্দ হয়, তার খুব সামাব্যই আদিবাসীদের জন্য ব্যয় হয়। আর সমতলের আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ নাই। কিন্তু সমতলের আদিবাসীরা সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের বাজেট বৃদ্ধি ও আদিবাসীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

লিখিত বক্তব্যে, আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট বণ্টন ও ব্যবস্থাপনায় অঞ্চল ও জাতিভিত্তিক আদিবাসী প্রতিনিধীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিতে এক শ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মচারী ও আদিবাসী সুবিধাভোগী শ্রেণির দরিদ্র্য আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ নিয়ে নিয়মিতভাবে লুটপাট করছে, তা অবিলম্বে কঠোর হাতে দমন করার দাবিও জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কর্মসূচিতে আদিবাসী প্রান্তিক মানুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। এছাড়াও ভূমিহীন আদিবাসীদের খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী তরুণদের জীবিকায়ন ও কর্মসূচি, ১০০ দিনের কাজ এবং স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে বলে লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.