সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যাকাণ্ড: ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালত ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে।

ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পাঁচ বছরের বেশি সময় পর ঢাকার একটি আদালত এই রায় দিল।

আজ (৩১ আগস্ট) মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু জানান, দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান।

ওই মামলার দুজন অভিযুক্তকে খালাস দেয়া হয়েছে।

এর আগে সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান এবং তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে হত্যা মামলায় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৩শে অগাস্ট।

যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আদালত মঙ্গলবার রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫শে এপ্রিল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় লেক সার্কাস রোডে জুলহাজ মান্নানের বাসায় ঢুকে তাকে এবং তার বন্ধু থিয়েটার কর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার ঘটনার মধ্যে এই হত্যা ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

পরেরদিন একটি টুইটার বার্তায় ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ঘোষণা দেয় আনসার-আল-ইসলাম, যারা নিজেদের ‘আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট (একিউআইএস) এর বাংলাদেশ শাখা বলে দাবি করে।

হত্যা মামলাটিতে দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আর ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) আটজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল ঘটনার তিন বছর পর ২০১৯ সালের ১২ই মে।

২০২০ সালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

আসামীরা হলেন, চাকরীচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন, সাব্বিরুল হক, জুনাইদ আহমদ, মোজাম্মেল হোসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রাহমান ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, শেখ আব্দুল্লাহ এবং আসাদুল্লাহ।

চাকরীচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হকসহ চারজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জুলহাজ মান্নান ছিলেন সমকামীদের অধিকার বিষয়ক বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা রূপবানের সম্পাদক। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন আমেরিকান দাতা সংস্থা ইউএসএইড কর্মকর্তা।

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো এমন রূপবান প্রকাশিত হয় যেটির উদ্দেশ্য সমকামীদের পক্ষে কথা বলা। বাংলা ভাষার এই পত্রিকাটির নাম রূপবান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.