শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে, জনমনে হতাশা

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ইউনাইটেড ন্যাশানাল পার্টির নেতা রানিল বিক্রমেসিংহে। বিক্রমেসিংহেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার বিষয়টিকে সাধারণ জনগণ অবিশ্বাস্য এবং হতাশাজনক বলে মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসাধারণ যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছে এই নিয়োগ তা বন্ধ করতে উদ্ধত একটা জবাব।

শ্রীলংকার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে চলমান বিক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টায় দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাক্ষে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রানিল বিক্রমেসিংহেকে নিয়োগ দিয়েছেন। একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবে তিনি নেতৃত্ব দেবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার তার মাহিন্দা রাজাপাক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকে সংঘাতে এ পর্যন্ত নয় ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে ও আহত হয়েছে দুইশ মানুষ।

বিক্রমাসিংহেকে রাজাপাকক্ষেদের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রধানমন্ত্রী পদে তাকে নিয়োগ করা হয়েছে কারণ রাজাপাক্ষে পরিবারের সদস্যদের তিনি নিরাপত্তা দেবেন সে সম্ভাবনা বেশি এবং রাজপাক্ষেরা অনুরোধ করলে তাদের নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থাও তিনি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিরোধীদের মধ্যে বিক্রমেসিংহের ব্যাপক সমর্থন নেই এবং জনসাধারণও তাকে খুব একটা সমর্থন করে না।

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে অনড় এখনও বিক্ষোভকারীরা

এদিকে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাক্ষে গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, দেশকে নৈরাজ্যের হাত থেকে রক্ষার জন্য তার ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন।

কিন্তু সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট রাজাপাক্ষের এই ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা প্রেসিডেন্টের আশু পদত্যাগের দাবিতে এখনও অটল আছেন।

শ্রীলংকায় দেশ জুড়ে কারফিউ বলবৎ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও বিকেলে তা পুর্নবহাল করা হয়েছে। দোকানপাট, ব্যবসা বাণিজ্য ও অফিস বন্ধ রয়েছে।

দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের চরম অভাব ও দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

কারফিউ শিথিল করার আগেই কলম্বোর বাসিন্দাদের পেট্রল স্টেশনের বাইরে লাইন দিতে দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.