শ্রম ভবনে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকদের লাগাতার অবস্থান শুরু

অবিলম্বে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার দাবিতে আন্দোলনরত ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানার শ্রমিকরা ‘শ্রম ভবন অক্যুপাই’ কর্মসূচি শুরু করেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শ্রমিকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলছে। দিনের বিভিন্ন সময় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, জাতীয় শ্রমিক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার খোরশেদ, সিপিবি শান্তিনগর শাখার সহ-সম্পাদক ফারহান হাবীব প্রমুখ।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বছরের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানা বন্ধ। আগস্ট মাসের শুরু থেকে কারখানার ভবনে ভিন্ন নামে ঠিকা শ্রমিক দিয়ে উৎপাদন কাজ চলছে।কারখানার স্থায়ী শ্রমিকরা এপ্রিল-মে-জুন মাসে সরকারি প্রণোদনার অর্থ থেকে বেতনের ৬০ শতাংশ নিজস্ব মোবাইল অ্যাকাউন্টে পেয়েছে। তিন মাসের অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ বেতন ছাড়াও দু’টি ঈদ বোনাস, দুই মাসের বেতন এবং অনেক নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা বকেয়া আছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কারখানা দু’টির স্থায়ী শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করে কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় সার্ভিস বেনিফিট, শ্রমিকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ কেটে রাখা মোট বেতনের ৭ শতাংশ ও তার সাথে আইন অনুযায়ী মালিকের জমাকৃত সমপরিমাণ অর্থ, অর্জিত ছুটির টাকা পরিশোধ করতে মালিক আইনত বাধ্য। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দেয়া সত্ত্বেও শ্রমিকরা শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পাচ্ছে

বক্তরা বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধর্ণা দেয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি সংকটের সুরাহা করতে কয়েকবার সভা করেছেন। কিন্তু প্রভাবশালী মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে শ্রমিকদের পাওনা আদায় করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের সমস্ত পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, লাগাতার কর্মসূচি চলাকালে অবস্থান অব্যাহত রেখেই মালিকের বাসভবন ঘেরাও, বিজিএমইএ ঘেরাও, গণভবন অভিমুখে ভুখা মিছিল কর্মসূচি পালিত হবে।

নেতৃবৃন্দ সমাজের অপরাপর শ্রেণি পেশার বিবেকবান মানুষের কাছে শ্রমিকদের এই আন্দোলনে সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।