শ্রমিক ছাঁটাই: বাটার বিরুদ্ধে মামলা, চাকরি পুনর্বহাল দাবি

ঢাকার ধামরাইয়ে আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাটা স্যু কারখানা থেকে প্রায় সোয়া দুইশ’ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধন করেছে।

আজ (০৯ জানুয়ারি) শনিবার সকালে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করে।

এর আগে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বাটা সু কোম্পানির বিভিন্ন পদের কর্মকর্তাদের নামে শ্রম অধিকার আইনে শ্রম আদালতে মামলা করেছে।

তাদের অভিযোগ, চাকরির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও অনেককে ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া বেতন বিল না দিয়ে জোরপূর্বক কিছু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

শ্রমিকরা বলেন, গাজিপুরের টুঙ্গী ও ধামরাইয়ে বাটা সু কারখানা লে-অফ ঘোষণা করে ২২০ জন শ্রমিককে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ধামরাই ও টুঙ্গীর স্থানীয় ও আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের নাম ব্যবহার করে শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছেন, যা স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেয়া হয়েছে মর্মে কর্তৃপক্ষ জমা রেখেছে। কিন্তু স্বাক্ষর নেয়া ওইসব কাগজে কী লেখা রয়েছে তা পড়তে, দেখতে ও জানতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

তারা বলেন, যাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তাদের অনেকের চাকরির মেয়াদ রয়েছে ১০-১৫ বছর। যেদিন অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, সেদিন কারখানার সামনে জলকামানসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রেখে কারখানা থেকে তাদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, লে-অফের অজুহাত দেখিয়ে ২২০ জন শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এখন ১০-১১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। অব্যাহতিপ্রাপ্তদের চাকরিতে পুনর্বহাল না হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান শ্রমিকরা।

ছাটাইকৃত শ্রমিকরা আরও বলেন, আমাদের চাকরি থেকে ছাটাই করে নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে। আমরা অনেক কষ্টে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছি। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ বহন করতে পারছি না। টাকার বিনিময়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে আমাদের যেন পুনর্বহাল করা হয়।

তারা অভিযোগ করে বলেন, চাকরিচ্যুত হওয়ার কথা শুনে দুই জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই স্ট্রোক করে মারা যায়।

ধামরাই বাটা সু কোম্পানির শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহমেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে বারবার মোবাইলে কল দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বাটা সু কোম্পানির সহকারী এইচআর ম্যানেজার এনামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি নানারকম তালবাহানা করে কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাকির হোসেন, কামরুজ্জামান, মোজাম্মেল হোসেন। তারা সকলেই বাটা সু কোম্পানির ছাটাইকৃত শ্রমিক।