শ্রমিকদের রেশন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের জন্য বরাদ্দ দাবি টিইউসি’র

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে গার্মেন্ট শ্রমিকদের রেশন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

এ বাজেটকে গণবিরোধী ও শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

আজ (১০ জুন) বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নগরীর কদমফুল ফোয়ারার কাছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মিছিলে বাধা প্রদান করে। এ সময় পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিল সমাপ্ত করে একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করতে যায়।

জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র সভাপতি শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ-এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী, সাদেকুর রহমান শামীম, জিয়াউল কবীর খোকন, এম এ শাহীন, সাইফুল আল মামুন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চলমান বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সকল খাতের শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারি সংক্রমণ এড়াতে ছুটি ভোগ করলেও গার্মেন্ট শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অন্যান্য জরুরি পরিষেবার মত কারখানায় কাজ করেছে।

বিনিময়ে ঝুঁকি ভাতা প্রাপ্তি দূরের কথা উপরন্তু মালিকরা অর্ডার বাতিলের অযুহাতে শ্রমিকদের ৪০ শতাংশ বেতন ও ঈদের বোনাস কর্তন করেছে। ফ্রন্ট লাইনাররা সবাই ইতোমধ্যে করোনার টিকা পেলেও গার্মেন্ট শ্রমিকরা কবে টিকা পাবে সেটা কেউ জানে না।

বক্তারা আরও বলেন, গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকরা বর্তমানে তীব্র দমন-পীড়ন-নির্যাতন ও শোষণের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছে। এ অবস্থায় ইতোমধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব আকারে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বাজেটে পোশাক শ্রমিকদের জন্য কোন ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়নি। উল্টো মালিকদের অনুকূলে রাষ্ট্রীয় নানান সুযোগ সুবিধা ও রেয়াত ইত্যাদি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে রেশন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। শ্রমিকের জন্য বা শ্রমশক্তি উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে কোন বরাদ্দ না থাকা এই প্রস্তাবিত বাজেটের গণবিরোধী রূপকেই প্রকাশ করে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম  শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হলেও বিশ্বে সর্বনিম্ন মজুরিদাতা। বর্তমানে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি এবং নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে কয়েক দফা। আজকের বাজারে গার্মেন্ট শ্রমিকরা যে মজুরি পায় সেটা দিয়ে কোনভাবেই তাদের জীবন চলে না। যৌক্তিক কারণেই আজ গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

সমাবেশ থেকে আরও বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে যাদের এত বিপুল অবদান, তাদের শ্রমে ঘামে অর্জিত সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ তাদের জন্য ব্যয় করতে হবে, এটাই ন্যয্যতার নীতি। এ অবস্থায় চলমান বাজেট অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের রেশন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের জন্য জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.