‘শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে ফেসবুক’

ফেসবুক ব্যবহারের কারণে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা এবং গণতন্ত্রও ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সিস হাউগেন নামের ফেসবুকের সাবেক এক কর্মী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে ফ্রান্সিস হাউগেনের এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাপী ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সেবায় বিঘ্ন ঘটার একদিন পরই এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর সিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে কিছু তথ্য সিনেট কমিটিকে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন।

বিবিসির খবরে বলা হয় আইনপ্রণেতাদের হাউগেন বলেছেন, ফেসবুকের সাইট ও অ্যাপগুলো শিশুদের ক্ষতি ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করার পাশাপাশি বিভাজনও সৃষ্টি করে। ক্যপিটল হিলে এক শুনানিতে এসব কথা জানান ফেসবুকের সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ৩৭ বছর বয়সী ফ্রান্সিস হাউগেন।

হাউগেনের শেয়ার করা তথ্য যাচাই করে ডব্লিইউসিজে দেখতে পায়, ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলের শুনানিতে তিনি জানান, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, তা জানে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা সেটা না করে মুনাফাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

জাকারবার্গের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। কারণ, প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি ছাড়া এ দায়িত্বে অন্য কেউ নেই।

গত সোমবার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমস্যায় পড়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। ফেসবুকের পরিষেবা বন্ধের বিষয়ে উচ্ছাসিত ছিলেন হাউগেন। তিনি বলেন, আমি জানি না কেন পরিষেবাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে, এই পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুক গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করতে পারেনি। ছোট ছোট মেয়েদের বা নারীদের তাদের শরীর নিয়ে খারাপ বোধ করতে দেয়নি।

এদিকে, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক খবরগুলো ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিরুপ ধারণা দিচ্ছে। এক চিঠিতে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের কোনো অর্থ নেই। ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর।

ফেসবুক এক পোস্টে জাকারবার্গ বলেন, আমরা নিরাপত্তা, সুস্থতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। আমাদের কাজ এবং উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যা দেখা কঠিন।

জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যমটি দাবি করছে প্রতিমাসে তাদের ২.৭ বিলিয়ন অ্যাকটিভ ইউজার থাকে। এ ছাড়া মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাদের আওতাধীন হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে। তারপরও ভুল তথ্য ছড়ানো ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা না করতে পারার অভিযোগে প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনা সম্মুখীন হচ্ছে।

সূত্র: দৈনিক বণিকবার্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.