শিক্ষক লাঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী উদীচীর সাংস্কৃতিক সমাবেশ

অব্যাহত শিক্ষক নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

২ জুলাই, শনিবার দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশিষ্ট অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পীসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য রাখেন উদীচীর সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর এম এন ফারুকী, শিক্ষাবিদ মমতাজ শরিফ, প্রজন্ম-৭১ এর সাধারণ সম্পাদক আসিফ মুনির, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, নির্যাতিত বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি কবি নুরুজ্জামান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক প্রলয় সাহা, শ্যামল বিশ্বাস, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য খালেদা ইয়াসমিন কণা প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উত্তরায় তুচ্ছ কারণে মৌলবাদীদের হামলার শিকার উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য ফাহমিদা হক কলি। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন অমুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষকরা। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কোন ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। আর তা হয়নি বলেই একের পর এক এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের মদতপুষ্ট রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই অনুসন্ধানে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সংযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব কারণেই সবগুলো ঘটনারই একটা নির্দিষ্ট সময় পর তদন্ত থেমে গেছে। বক্তারা আরও বলেন, সরকার দেশের অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এর মতো অনেক ভালো ভালো কাজ করলেও মানুষের মননের উন্নয়ন না ঘটাতে পারলে তা কোন কাজে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটাতে হলে দেশের মানুষের মননের উন্নয়ন ঘটানোর তাগিদ দেন সমাবেশে বক্তারা। নড়াইলের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্চনা, আশুলিয়ার শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যসহ সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো শিক্ষক নির্যাতন, নিপীড়ন, লাঞ্চনার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান উদীচীর প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা।

এর আগে সমাবেশের শুরুতে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। তারা পরিবেশন করেন “মানবো না এই বন্ধনে” এবং “অধিকার কে কাকে দেয়” গান দুটি। এছাড়া শিক্ষক লাঞ্চনার প্রেক্ষিতে স্বরচিত গণসঙ্গীত “শিক্ষক তুমি জাতি গঠনের কারিগর” পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পী তৌহিদা স্বাধীন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুবর্ণা আফরিন।

ঢাকা ছাড়া দেশের বেশিরভাগ জেলা এবং উপজেলায় উদীচীর উদ্যোগে অব্যাহত শিক্ষক লাঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.