শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বাম জোটের ‘সংহতি অবস্থান’

কালক্ষেপন না করে জেদ ও দম্ভ পরিহার করে অবিলম্বে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপসারণ করা ও ছাত্রদের ন্যায্য গণতান্ত্রিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাম নেতৃবৃন্দ।

সরকারের হঠকারিতায় শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হলে সমুদয় দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বাম নেতৃবৃন্দ।

২৫ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সকালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘সংহতি অবস্থান’ কর্মসূচিতে বাম জোট নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

২৪ ঘন্টার মধ্যে সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপসারণ ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য গণতান্ত্রিক দাবিসমূহ মেনে নেবার জন্য সরকার, শিক্ষামন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অযথা কালক্ষেপনের কারণে অনশনরত শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হলে তার পুরো দায়দায়িত্ব সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। তারা জেদ, দম্ভ ও একগুঁয়ে মনোভাব পরিহার করে অতিদ্রুত ভিসিকে অপসারণ করে হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবারও দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভিসি অনেক আগেই তার পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। ছাত্র ছাত্রীদের গণঅনাস্থার মুখে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় জবরদস্তি করে ভিসি পদ আঁকড়ে থাকার কোন অবকাশ নেই।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করে বলেন, সরকার এতটা নীচে নেমেছে যে, তারা প্রতিশোধাত্মক মনোভাব নিয়ে অনশণকারীদেরকে মেডিকেল সেবা দেওয়া ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদেরকে চাপ ও হুমকি দিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সরকার ও প্রশাসন একের পর উসকানিমূল পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঘোলাটে করে ফেলছে। এসব উসকানির কারণে অনভিপ্রেত যে কোন ঘটনার দায় দায়িত্ব সরকারের উপরই বর্তাবে।

নেতৃবৃন্দ চরম দায়িত্বহীন ভূমিকার কারণে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন।

বাম নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করারও দাবি জানান। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্য ও দখলদারিত্ব মুক্ত করে শিক্ষার গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

বাম জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংহতি অবস্থানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু,  ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, বাসদ-মার্কসবাদী’র কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা আবদুল আলী, ওয়ার্কার্স পার্টি-মার্কসবাদী নেতা বিধান দাস। সংহতি জানান ডা: হারুন অর রশীদ, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, গণসংস্কৃতি ফ্রন্ট ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.