লুটেরাদের বিরুদ্ধে বামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বিকল্প নাই

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন 

নাবিস্কো থেকে পুরানা পল্টন পার্টি অফিসে যেতে মোটরসাইকেলে উঠেছি। ড্রাইভার সাহেবের মলিন পোশাক, পায়ের পাতায় দুর্ঘটনাজনিত গভীর ক্ষত। রাস্তার প্রচণ্ড জ্যামে উনি মহাবিরক্ত। মাঝে মাঝে মন্তব্য করছেন। কথার মধ্যে হতাশার সুর স্পষ্ট। মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের মধ্য দিয়ে উনার সঙ্গে কথোপকথন শুরু হলো। যা বুঝলাম, করোনার আগে কোথাও কোনো একটা চাকরি করতেন। করোনায় চাকরিটা গেছে। এখন মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে যে আয় করেন তা দিয়েই সংসার চালান। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ। দুর্নীতি-লুটপাট নিয়েও আক্রোশ শোনা গেল তার কণ্ঠে। উনি বললেন, আমাদের মত মানুষের পক্ষে গরু-খাসির মাংস খাওয়া বিলাসিতা। ভরসা ছিল বয়লার মুরগী, তারও দাম বেড়ে এখন কেজি দেড়’শ টাকা। গরিব মানুষের ভরসা ছিল চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া মাছ, তাও এখন দামের জন্য কেনা দায়। আমাদের পেটের ভাত জোগাড় করতেই জীবন শেষ করতে হয়। আর গুটিকয়েক লোক লুটপাট করে কলাগাছ, বটগাছ হয়েছে। দশ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্রিজ করতে লাগে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। পার্টি অফিসের সামনে নেমে ভাড়া মেটানোর সময় ড্রাইভার সাহেব বললেন- আপনারা রাজনীতি করেন, আপনারা যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ান, তবে কে দাঁড়াবে?

আজ এ প্রশ্ন অনেকেরই। কারখানার শ্রমিক, মাঠের ক্ষেতমজুর, গ্রামীণ মজুর, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সবার একই প্রশ্ন। গত আঠারো মাসে করোনা মহামারির কষাঘাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন জর্জরিত। জীবন-জীবিকা ক্ষতবিক্ষত। এসময়ে লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারিয়েছেন। সত্তর শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। দুই কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে নেমে গেছে। মানুষের আয় কমেছে কিন্তু দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রা আরো নিম্নমুখী। করোনার আগে এবং করোনার পরে জিনিসপত্রের দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, সবজি সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। শহরে যে সবজি বিক্রি হয় ৬০ টাকায়, গ্রামের কৃষক তা ফড়িয়ার কাছে বেঁচে ৫/১০ টাকায়। এভাবেই শহর ও গ্রামের সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা একদল মধ্যসত্ত্বভোগী লুটেরা ব্যবসায়ীর পকেটে চলে যাচ্ছে। নিজেদের লুটপাট টিকিয়ে রাখতে তার কিয়দংশ ভাগ আমলা-পুলিশদের মধ্যেও ভাগ বাটোয়ারা করে দেয় এই লুটেরারা। করোনা মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক প্রণোদনার পরিমাণ এক লাখ আটাশ হাজার তিন শত তিন কোটি টাকা। এর সামান্য কিছু অংশ সরাসরি গরিব মানুষকে প্রদান করা হয়েছে। বাকীটা শিল্প মালিকসহ ধনী উদ্যোক্তাদের প্রদান করা হয়েছে। কৃষক ও শ্রমিকদের নামে যে বরাদ্দ তা গেছে মূলতঃ চাতাল মালিক, ব্যবসায়ী, অকৃষক জমির মালিক ও গার্মেন্ট কারাখানার মালিকদের হাতে।

স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছর যাবৎ শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুরসহ গ্রাম-শহরের গরিব, মেহনতি মানুষের ঘাড়ের উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে আমাদের সমাজের প্রধান শ্রত্রু সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা ধনিকশ্রেণি। কৃষক-ক্ষেতমজুর বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে দেশকে খাদ্য আমদানি থেকে রক্ষা করেছে। এক কোটির অধিক প্রবাসী শ্রমিক প্রতিবছর দেশে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠায়। গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিংড়ানো শ্রমে উৎপাদিত গার্মেন্ট খাত ৪৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে। বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন ৪৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২১ সালের শেষে তা হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) এর হিসাব মতে সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫.২৭ বিলিয়ন ডলার। সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা। বছরে ৬৪ হাজার কোটি টাকা। শুধুমাত্র ২০১৫ সালে পাচার হয়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকা বা ১.১৫ বিলিয়ন ডলার। লুটেরা ধনিকরা দেশের আপামর জনগণকে লুট করে বিদেশে সম্পদ পাচার করছে। সাদা চামড়ার ব্রিটিশরা দেশ দখল করে জনগণকে লুট করে সম্পদ নিজের দেশে পাচার করতো। এখনকার কালো চামড়ার লুটেরা ধনিকরা বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে ভোট কেন্দ্রের দখল নিয়ে দিনের ভোট রাতে করিয়ে ‘মিডনাইট সরকার’ কায়েম করে শাসন ক্ষমতা দখলে রেখে জনগণকে লুট করে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে।

কৃষক-শ্রমিক-ক্ষেতমজুর-প্রবাসী শ্রমিকদের অর্জিত সম্পদ দিয়ে কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা যেত। নতুন নতুন শিল্প গড়া যেত। বিদ্যমান শিল্পের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা যেত। লুটেরা শ্রেণির সরকারগুলো সরকারি খাতে বিদ্যমান পাট ও চিনি শিল্পকে আধুনিকায়ন না করে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিনিকলসমূহ বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের চিনিখাত পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতেও কোনো চিনিকল নাই, পাঁচটি রিফাইনারি রয়েছে। এতে নিঃস্ব হয়ে যাবে পাঁচ লাখ আখচাষী। আপামর জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে পাহাড়ের মত বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লুটেরা ধনিকগোষ্ঠীর সৃষ্ট লুটপাটতন্ত্র।

লুটেরা শাসকগোষ্ঠী নিজেদের লুটপাট নিশ্চিত করার জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে ভোটাধিকারকে ভুলণ্ঠিত করে তৃণমূল পর্যায়ে এক ধরণের ‘পাওয়ার ব্রোকার’ সৃষ্টি করেছে। যারা প্রান্তিক জনগণের জন্য বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে লুট করে তার ভাগ পিরামিডের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এই করোনাকালে শুধু ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত এক কোটি টাকার অধিক ডিপোজিট রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ৬৪৭টি। বর্তমানে দেশে এ ধরণের হিসাব রয়েছে ৯৪ হাজার ২৭২টি। বাংলাদেশ নাকি ‘আল্ট্রা রিচ’ বা ‘অতি ধনী’দের দেশে পরিণত হয়েছে। এদেশে ’৭১ সালে ভূমিহীন ছিল ৬৭ শতাংশ এখন পঞ্চাশ বছর পরে ভূমিহীনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশ। কিছু লোকের অতি আয় বৃদ্ধির কারণে আমাদের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। কিন্তু সরকারের হিসাবেই দেশের চার কোটি ছিয়ানব্বই লাখ মানুষের দৈনিক আয় ১.৯০ মার্কিন ডলার বা ১৬০ টাকার নীচে। অর্থাৎ এ মানুষগুলো দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে। দেশের চা শ্রমিকদের সরকার ঘোষিত দৈনিক মজুরি মাত্র ১২০ টাকা। তাদের বাস দারিদ্রসীমারও অনেক অনেক নীচে।

জনগণের আরেক শত্রু সাম্প্রদায়িক শত্রুকে আস্কারা দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন শ্রেণির উভয় ক্যাম্প। যারা ক্ষমতায় আছেন এবং ক্ষমতার বাইরে আছেন উভয়ই এ অপকর্মটি করে যাচ্ছেন। মৌলবাদের পিছনে পুঁজিবাদের সমর্থন না থাকলে আজকের আধুনিক যুগে মৌলবাদ কোনো বিরুদ্ধ শক্তিই না। এটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমরা যেমন দেখি, তেমনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সত্যি। লুটেরা ধনিকদের একটি দল বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের শত্রু জামায়াতসহ ও অন্যান্য উগ্র সাম্প্রদায়িক দলসমূহকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা দিয়েছে। অন্য একটি দল আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালে ক্ষমতায় যেতে উগ্র সাম্প্রদায়িক দল খেলাফত মজলিসের সাথে পাঁচ দফা চুক্তি করতে কার্পণ্য করেনি। বর্তমানে হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলে চলছে। গত ৫০ বছর ধরে শাসক গোষ্ঠীর দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত দেশ শাসন করেছে। যখন তারা দেশ শাসনে ব্যর্থ হয়েছে তখন তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছে উর্দিপরা শাসকরা। বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণি ও মেহনতি মানুষের শ্রমে দেশের অগ্রগতি হচ্ছে অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশের এ অগ্রগতির লাভ আত্মসাত করেছে লুটেরা ধনিকশ্রেণী ও তার গ্রাম-শহরের দালালরা।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল, মুজিবনগরে প্রদত্ত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আদেশ’ এ বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহিত সংবিধানের চার মূলনীতির মাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে। তার থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে বর্তমান বাংলাদেশ। তৎকালীন পাকিস্তানে বিরাজমান ‘দুই অর্থনীতি’ থেকে মুক্তির যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, পাকিস্তানিরা বিতাড়িত হলেও ‘দুই অর্থনীতি’ গত ৫০ বছরের ক্ষমতাসীনদের হাত ধরে আরো পাকাপোক্ত হয়েছে। গিনি বা জিনি সহগ সেই অসাম্য বৃদ্ধিকেই সমর্থন করে। ১৯৭৩ সালে গিনি সহগ ছিল ০.৩৬ । সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে তা ছিল ০.৪৮৩। গত পাঁচ বছরে কমার কোনো কারণ নেই ধরে নেয়া যায় তা আরো বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অসাম্য দূরীকরণের যে অঙ্গীকারগুলো করা হয়েছিল তা হ্রাস না পেয়ে গত ৫০ বছরে শাসকশ্রেণির শোষণমূলক নীতির কারণে আয় বৈষম্য, ধন বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য আরো বিস্তৃত হয়েছে। শোষণ আরো ঘনীভূত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশের আমজনতাকে সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্র ও গণতন্ত্রহীনতা এ চারটি মহাবিপদ মোকাবিলা করে নিজেদের শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা ধনিকশ্রেণির সাথে আপামর জনগণের দ্বন্দ্ব যা সমাজের প্রধান দ্বন্দ্ব- তার নিরসন তথা সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা ধনিকশ্রেণিকে উচ্ছেদ বা পরাজিত করা ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়া অসম্ভব। এর জন্য সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে-শহরে, ক্ষেত-খামার-কারখানায় কমিউনিস্ট-বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক-দেশপ্রেমিক শক্তিকে এক জোট করতে হবে। ক্ষমতাসীন শ্রেণির দ্বি-দলীয় ধারার বিকল্প বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠন, রক্ষা, দৃঢ় ও বিস্তৃত করে ক্ষমতা গ্রহণের উপযোগী করার ‘পিভটাল’ দায়িত্ব কমিউনিস্ট পার্টিকেই গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে। পার্টি শক্তিশালী হলে জোট শক্তিশালী হবে। আর জোট শক্তিশালী হলে পার্টি পরিপুষ্ট হবে।

দেশের মানুষের শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়তে ক্ষমতা গ্রহণের উপযোগী হয়ে উঠতে পার্টি ও বাম জোটকে লুটেরা ধনিকশ্রেণির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় তাদের যে দল ক্ষমতায় থাকবে সংগ্রামের বর্শাফলক তার দিকেই নিক্ষেপ করতে হবে। যতদিন শ্রেণি হিসেবে লুটেরা ধনিকশ্রেণি ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ না হয় ততদিন নিরন্তর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বারবার শাসকশ্রেণির ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া শ্রেণিকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করতে হবে। এর মাধ্যমেই বাম-গণতান্ত্রিক শক্তিকে শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে নিজেকে ক্ষমতা দখলের উপযুক্ত হয়ে উঠতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই।

লেখক: প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.