লালমনিরহাটে ধর্মান্ধদের বিচারের দাবিতে উদীচীর বিক্ষোভ

গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের বুড়িমারি ইউনিয়নে উগ্র মৌলবাদী শত শত মানুষ ধর্ম অবমাননার ধুয়া তুলে একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ঐ ব্যক্তি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। মসজিদে আসরের নামাজ আদায়ের পর ঐ ব্যক্তি ধর্মের অবমাননা করেছেন এমন উসকানিমূলক গুজব ছড়িয়ে একদল ধর্মান্ধ অমানুষ জড়ো হয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর রক্তাক্ত মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে উল্লাস করেছে।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আজ (৩১ অক্টোবর) শনিবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে সারাদেশে এই জঘন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এখন মৌলবাদীদের নির্ভয় চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর আস্কারা পেয়ে এই উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহারের পরিণাম ভোগ করছে বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এখন মৌলবাদের তান্ডবের উন্মাদনায় আতঙ্কিত।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, ইকবালুল হক খান, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত শফি কমল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, সাবেক ছাত্র নেতা আকরামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সভাপতি প্রকৌশলী শঙ্কলাল সাহা। সভা সঞ্চালন করেন উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।

পরবর্তী কর্মসূচি:

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন: আগামী মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর সারাদেশে সন্ধ্যা ছয়টায় শহিদ মিনার অভিমুখে মশাল মিছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে বিকাল চারটা থেকে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার অভিমুখে মশাল মিছিল।

এদিকে শাহবাগেই একই সময়ে প্রগতিশীল সংগঠনসমূহের ব্যানারে একই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শেয়ার করুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin