লালকেল্লায় কৃষকদের পতাকা, আওয়াজ উঠেছে ‘অকুপাই দিল্লি’

ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় পৌঁছে গেল কৃষকদের মিছিল। লালকেল্লায় গিয়ে কৃষকদের মধ্যে থেকে আওয়াজ উঠল ‘অকুপাই দিল্লি’। উড়িয়ে দিলেন কৃষক আন্দোলনের পতাকা।

এর আগে দিল্লিতে ঢুকতে গিয়ে পুলিশের সাথে ব্যাপক লড়াই হয়েছে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের।  

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনে আজ (২৬ জানুয়ারি) মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস, লাঠি চার্জ কোন কিছু দিয়েই পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে নি প্রতিবাদী কৃষকদের। সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিন সীমানায় সব ব্যারিকেড ভেঙে চুরমার করে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে দিবসে দিল্লি দখল করেছে তারা।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এতে নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। দিল্লি ও হরিয়ানাকে বিভক্তকারী সিংঘু সীমান্তে ও ভারতের রাজধানীর পশ্চিম অংশে টিকরি সীমানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার লোক পতাকা হাতে হেঁটে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান, তাদের অনেকে আবার ট্র্যাক্টর নিয়েই ঢুকে পড়েন।

পুলিশের ঘোষণা ছিল, মঙ্গলবার সকাল ১২ টা নাগাদ কৃষকদের মিছিল নির্দিষ্ট তিনটি রুটে গিয়ে আবার উৎসস্থলে ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। সকাল ৮টা থেকে লাগামছাড়া গতিতে দিল্লির দিকে ধেয়ে আসতে থাকে মিছিল। পুলিশের বাধা কেউ মানেননি। আর তাই নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে দিল্লির নয়ডা মোড়, আইটিও মোড়, এসবিটি এলাকা।

একাধিক ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাচ্ছে পুলিশ। চলছে লাঠি। পাল্টা কৃপাণ হাতেও কৃষকদের দেখা গিয়েছে। সকাল ১০টায় নয়ডা মোড়ের চিত্রটা ছিল এমনই। পুলিশ লাঠি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রজাতন্ত্র দিবসে তিনটি নির্দিষ্ট পথে ট্র্যাক্টর মিছিল করার অনুমতি দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ, কিন্তু সরকারি নির্দেশকে উড়িয়ে দিয়ে সিংঘুতে সকালেই মিছিল নিয়ে নেমে পড়েন কৃষকরা। পাঁচ হাজার কৃষকের জমায়েতের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা, তারা বারবার ধীর গতিতে এগোনোর অনুরোধ করলেও কৃষকরা দ্রুতগতিতে দিল্লির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।

কৃষক সংগঠকেরা আগেই ঘোষণা দেন, ২৬ জানুয়ারি তাঁরা নয়াদিল্লির রাজপথে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ট্রাক্টর নামাবেন। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ২০০ জেলায় তাঁরা ট্রাক্টর মিছিল বরে করবেন।

বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দেশটির ৪০০টির বেশি কৃষক সংগঠন কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছে।

ভারতের ইতিহাস এই কৃষক আন্দোলন অন্যতম দীর্ঘ নজিরবিহীন আন্দোলন।