লকডাউনে ‘জরুরি প্রয়োজন’ ছাড়া বের হয়ে আটক শতাধিক

 

কঠোর বিধিনিষেধ না মেনে ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া’ রাস্তায় বের হওয়ায় রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল এলাকা থেকে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ রাজধানীর রাজপথ অনেকটাই ফাঁকা।

সরকারি ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি, পণ্যবাহী বাহন ছাড়া কিছু রিকশা-রিকশাভ্যান চলছে বিভিন্ন রাস্তায়। কিছু কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেলেও সংখ্যায় তা একেবারেই কম।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেক পোস্ট ছাড়াও কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসিয়েছে পুলিশ। ‘জরুরি প্রয়োজন’ ছাড়া কাউকে রাস্তায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। সকালে গুলশান, রামপুরা ও হাতিঝিল এলাকায় সেনাবাহিনীর টহলও দেখা গেছে।

সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সারাদেশেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ১০৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেও অনেকে ঘর হতে বের হচ্ছেন। বের হয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কেউ কেউ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের আট বিভাগে মোট ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর বাইরে আটক করা হয়েছে ২৪৯ জনকে। নিয়ম না মানায় আটজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানাও করা হয়েছে।

যাঁরা বের হয়েছেন তাঁরা কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যৌক্তিক কারণ না পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

লকডাউনে জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া সব ধরনের যান্ত্রিক বাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রায়েছে। তা না মানায় ওই সময় পর্যন্ত ২২২টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করে প্রায় তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নিয়ম না মেনে দোকান খোলা রাখায় দশ মালিকের কাছ থেকে ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে পুলিশ।

কেবল ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগেই ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে তেজগাঁও থানা এলাকায় ৩০ জন, শিল্পাঞ্চল থানা ৮ জন, মোহাম্মদপুর ২৬ জন, আদাবর থানা ১৮ জন, শেরে বাংলা নগর থানা ৪০ জন এবং হাতিরঝিল থানা পুলিশ ৪২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে বলা হয়, এর বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিধি-নিষেধ ভেঙে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হলে মামলা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.