র‍্যাবের ওপর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এই ছয় কর্মকর্তা হলেন ব়্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ, বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মোহাম্মদ আনোয়ার লতিফ খান৷

ব়্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না তিনি৷

মার্কিন রাজস্ব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে৷

রাজস্ব মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের মাদকবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসাবে ব়্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে৷ এর ফলে আইনের শাসন, মানবাধিকার, বিভিন্ন মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ক্ষুণ্ণ করার মাধ্যমে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ হুমকিতে পড়েছে৷

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ছয় শতাধিক গুম, ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৬০০ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনে ব়্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায় রয়েছে৷ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের এইসব ঘটনায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলেও কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে৷

এতে বলা হয়, শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের এই দিনে মার্কিন অর্থ দফতরের ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস (ওএফএসি) বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লংঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট।

সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন নির্বাহী আদেশ ১৩৮১৮ এর অধীনে বিদেশি সংস্থা হিসাবে ব়্যাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন রাজস্ব মন্ত্রণালয়৷ এছাড়াও একই নির্বাহী আদেশের অধীনে নিষেধাজ্ঞায় বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান ছয় জন শীর্ষ কর্মকর্তার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ ও কয়েকজন র‍্যাব কর্মকর্তার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় বাংলাদেশ অসন্তোষ জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে তলব করে এই অসন্তোষের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, র‍্যাব যে মন্ত্রনালয়ের অধীনে সেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রধান আসাদুজ্জামান খান র‍্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সরাসরি কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ ইচ্ছে করে ক্রসফায়ার বা কেউ ইচ্ছে করে গুলি করতে পারে না।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬০০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ৬০০-রও বেশি লোকের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, এবং নির্যাতনের জন্য দায়ী।

কিছু রিপোর্টে আভাস পাওয়া যায় যে এসব ঘটনায় বিরোধীদলীয় সদস্য,সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের টার্গেট করা হয়েছে – বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে ‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ৬ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, “বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপক অভিযোগ – আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, ও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হেয় করার মাধ্যমে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতরের ‘ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস’ (ওএফএসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.