রোহিঙ্গা শিবিরে ‘আরসা’-বিরোধী অভিযান

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কথিত আরাকান রোহিঙ্গা সালভেনশন আর্মি (আরসা) নেতা মোহাম্মদ হাসিমের মরদেহ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবুর রহমান।

এর আগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেনশন আর্মি) সদস্যদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বলা হচ্ছিলো রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মহিবুল্লাহসহ আরো অনেক হত্যাকাণ্ড এবং সংঘাতের সাথে আরসা সদস্যরা জড়িত।

তবে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাংয়ের ২২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে মোহাম্মদ হাসিম যিনি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনি কীভাবে মারা গেছেন, এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে গত কয়েক দিনে আরসার সদস্যসহ ১৭২ জনকে আটক করেছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ অক্টোবর রাতে বালুখালি ক্যাম্পে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয় জনকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার জন্যও আরসাকে দায়ী করা হচ্ছে।

গত ২৬ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে আরসার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ওই বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মাধ্যমে আরসা নামে জঙ্গি সংগঠন গড়ে উঠেছে। এই জঙ্গি সংগঠন মিয়ানমার থেকে মাদক ও অস্ত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছে।তারা টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তকে ব্যবহার করছে। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় চরম হুমকি তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, আরসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিপত্য বিস্তারে তৎপর। তারা হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

ওই বৈঠকেই আরসা সদস্যদের আইনের আওতায় আনার  সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই আরসার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.