রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ –পররাষ্ট্র মন্ত্রী

কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ বলে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। একইসাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘সরকার কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেছেন যে, “মুহিবুল্লাহ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছিলেন, সেকারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে।”

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতি এমন সময় এলো, যখন এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর চাপের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ সরকার।

কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে এই হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের মধ্যে শনিবার এক বিবৃতিতে এই আশ্বাস দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাকে বুধবার অজ্ঞাত পরিচয়ের অস্ত্রধারীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে।

তার তিন দিন পর দেওয়া বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে।”

এদিকে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও দুজন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে এ অভিযান চালানো হয়।

এ সময় মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জিয়াউর রহমান ও আবদুস সালাম নামের সন্দেহভাজন দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজন রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য।

মুহিবুল্লাহ হত্যার পর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এবং তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট শুক্রবার এক বিবৃতিতে মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের ‘পূর্ণ ও স্বচ্ছ’ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এবং ঘটনার বিচার দাবি করে বিবৃতি প্রকাশ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.