রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহিংসতা বাড়ছে

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহিংসতা বাড়ছে, বাড়ছে অস্ত্রের ব্যবহার।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার রেশ না কাটতেই খুন হয়েছেন আরো ৬ জন৷ বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়ায় লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি চালিয়ে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি তারা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে৷

শনিবার খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান- এবিপিএন৷ তবে পরিকল্পনাকারী পর্যন্ত এখনও পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ৷

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যা মিশনে অংশ নেয় ১৯ জন৷ এদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন অস্ত্রধারী৷ পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে কয়েক মিনিটেই কিলিং মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে খুনিরা৷

জার্মানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন) –এর এক প্রতিবেদনে আজ এসব কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডই নয়, এর আগেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ বিভিন্ন সময় সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে৷

কক্সবাজার জেলা পুলিশের হিসেব অনুযায়ী ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় অস্ত্র মামলা হয়েছিল ১৩টি৷ পরের বছর তা বেড়ে হয় ১৭টি৷ ২০২০ সালে ২৭টি অস্ত্র মামলা হয়৷ চলতি বছরের নয় মাস ২৩ দিনে ১৫টি অস্ত্র মামলা হয়েছে৷ ওই সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ১৪টি দেশীয় পিস্তল, ৪৪টি এলজি, তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৩০টি একনলা বন্দুক, ২৫টি দেশি বন্দুক, চারটি পাইপগানসহ প্রচুর পরিমাণ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে ১২৩টি অস্ত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে৷

সর্বশেষ শুক্রবার ভোর রাত সোয়া ৪টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি হয়৷ এই ঘটনায় যে ছয়জন খুন হয়েছেন তারা ১৮ নম্বর ক্যাম্পের মসজিদে ছিলেন৷ পাশেই ১৯ নম্বর ক্যাম্পে বসবাস করেন শাহ আলম৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকে আমরা আতঙ্কেই ছিলাম৷ এরপর আবার পাশের ক্যাম্পে ৬ জন খুনের পর আমরা আসলে পরিবার নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই আছি৷ পুলিশ পাহারা দিচ্ছে, কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গারা খুব আতঙ্কে আছেন’।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট থেকে চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত টেকনাফ ও উখিয়া থানায় ৮৯ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছেন৷ এসব ঘটনায় ৮০টি মামলা হয়েছে৷ এর বাইরে ২৪ জন রোহিঙ্গা বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন৷ সর্বশেষ শনিবার মারা গেছেন ৬ জন৷

২০১৮ সালের মে মাসে দেশব্যাপী শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ২৭৯ জন৷ এদের মধ্যে রোহিঙ্গা ১০৯ জন৷ নিহত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন নারী৷

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরের মধ্যে টেকনাফ থানা এলাকায় ১১টি ও উখিয়া থানা এলাকায় ২৩টি শিবিরের অবস্থান৷ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত চার বছরে এ দু’টি থানায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক হাজার ৩৬৮টি মামলা হয়েছে৷ এগুলোতে আসামি করা হয় ২ হাজার ৩৭৮ জনকে৷ যাদের মধ্যে এক হাজার ৭৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, মূলত ১০ ধরনের অপরাধে এসব মামলা হয়েছে৷ এগুলো হচ্ছে- অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অপহরণ, পুলিশের উপর হামলা, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা এবং মানবপাচার৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে মাদক মামলা ৭০৬টি৷ ২০১৭ সালের পর থেকে ক্যাম্পগুলোতে মাদক অপরাধ বেড়েই চলেছে৷

সূত্র: ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.