রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে সিপিবির আলোচনা সভা আগামীকাল

মানব সভ্যতার ইতিহাসে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এক অনন্য ঘটনা। বর্তমান বিশ্বে যেখানে চলছে সাম্রাজ্যবাদের একচেটিয়া দাপট, সেখানে রুশ বিপ্লব খুবই প্রাসঙ্গিক, অনেক বেশি জীবন্ত।

রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে সেই বিপ্লবকে জানা ও বোঝা এবং তার শিক্ষাকে আত্মস্থ করার প্রত্যয়ে আগামীকাল (৭ নভেম্বর) শনিবার বিকাল ৪.৩০টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র উদ্যোগে রাজধানীর মৈত্রী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে (নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নভেম্বর মাসে) রুশ দেশে বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এক নতুন সমাজ-সমাজতন্ত্র। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচনকারী ঘটনা। এই রুশ বিপ্লব শ্রেণি শোষণের চির অবসান ঘটিয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে লালিত শোষণমুক্তির স্বপ্নের বাস্তব রূপদান করে। এ বিপ্লব মানুষের ওপর মানুষের, শ্রেণির ওপর শ্রেণির শোষণের অবসান ঘটিয়েছিল।

রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব কেবল মাত্র রাশিয়ার জনগণের অবস্থার পরিবর্তন সাধন করেনি, সারা পৃথিবীর নিপীড়িত জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে দিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্তির লড়াইয়ে নিপীড়িত জাতিসমূহের পাশে দাঁড়িয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। বাংলাদেশের মানুষ সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদেরকে নৈতিক, মানবিক ও সামরিক সহযোগিতা দিয়েছিল।

শোষণহীন সমাজ, সাম্য, সমাজতন্ত্র- মানুষের বহু শতাব্দী লালিত স্বপ্ন। সমাজতন্ত্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থিত করেছিলেন কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস। সেই মতাদর্শকে ধরেই প্রথম সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছিল রুশ বিপ্লব । রুশ বিপ্লবের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নে এখন আর সমাজতন্ত্র না থাকলেও রুশ বিপ্লবের বা লেনিনবাদের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে যায়নি। রুশ বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা তাই এখনও রয়ে গেছে। কারণ সমাজতন্ত্রের শোষণমুক্তির এবং শতকরা ৯৯ জন মানুষের জন্য সত্যিকারের গণতন্ত্রের স্বপ্ন এখনও হারিয়ে যায়নি। যাবেও না কোনোদিন।

রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সিপিবির পক্ষ থেকে সকলকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।