রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

শাহাদাৎ খাঁকে সভাপতি, আব্দুল কুদ্দুসকে সাধারণ সম্পাদক ও লিটন নন্দীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি পুনর্গঠন করেছে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।

রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ খাঁ’র সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিমের পরিচালনায় গতকাল (২৯ জুলাই), শুক্রবার পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি জননেতা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সংগঠনের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ কাফি রতন, রাগিব আহসান মুন্না, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ, আমিনুল ফরিদ, অরুন কুমার শীল, আব্দুল হাকিম মাইজভাণ্ডারী, মৃদুল কান্তি রায় প্রমুখ।

সভায় শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট, গঠনতন্ত্র সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। সাংগঠনিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক লিটন নন্দী।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে রিকশা শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রামের সুবিশাল ইতিহাস রয়েছে। এদেশের সকল জাতীয় আন্দোলনে রিকশা শ্রমিকদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও ভূমিকা। ২০১২ সালে ব্যাটারীচালিত রিকশা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আবার নতুন করে সংগঠিত হয়ে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের গণবিরোধী নীতি ও সরকার দলীয় ব্যক্তি-সরকারি কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের লুটপাটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ সংকটে। এই সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শ্রমজীবী মানুষ। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার, দেশীয় উৎপাদনের পরিবর্তে আমদানি নির্ভর বাজার অর্থনীতি গড়ে তুলে সরকার এই সংকট তৈরি করেছে। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপদসীমার নিচে নেমে গেছে, অর্থের তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। টাকার মানের ক্রমাগত পতন হচ্ছে। সকল পণ্যের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণের জীবন যাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

শতভাগ বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ রপ্তানির সক্ষমতার ফাঁকিবাজি গল্প এক বছর পার না হতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। লোডশেডিং এখন নিত্য ঘটনা। লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য, যার শিকার গরিব-মেহনতি মানুষ। লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জ্বালানিখাতের লুটপাট ও গণবিরোধী নীতি।

স্বৈরাচারী সরকার ডিজটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ নানা কালো আইনের মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠরোধ করে যাচ্ছে। কেড়ে নেয়া হচ্ছে কথা বলার অধিকার, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশনের অধিকার। গণমাধ্যম, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ওপর দলীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।

দেশের জনগণের বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা আজ ভয়াবহ সংকটে। এ সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সর্বোপরি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে হবে।

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় দাবি জানানো হয়, তিন চাকার যানবাহনের শ্রমিকদের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ব্যাটারীচালিত যানবাহনের বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। সব সড়কে সার্ভিস লেন চালু ও সব রাস্তায় চলাচলের অধিকার দিতে হবে। শ্রমিকদের জন্য রেশন ও পেনশনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সভায় জননেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শ্রমিক মেহনতি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে। মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সভায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে শাহাদৎ খাঁ সভাপতি, আবদুল কুদ্দুস সাধারণ সম্পাদক ও লিটন নন্দী সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.