রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কেন স্থায়ী, মুক্তির পথ কী?

মোহাম্মদ শাহ আলম   

দেশের রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র নির্বাসনে। হামলা-মামলা অব্যাহত। গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নানা ধরনের কালো আইনের অপপ্রয়োগ ও নিপীড়ন চলছে। দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, বাজার লুটেরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দখলে। হৃদয় মণ্ডলের উপর নিপীড়নসহ সাম্প্রদায়িক হামলা-আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির’ নামে মার্কিনি কাঠামোর অধীনে সরকার ‘জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট’ ও ‘একুইজিশন ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ নামের দুই চুক্তি করার অপচেষ্টা চলছে। আমেরিকান সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া নূলেন্ড ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফর করে গিয়েছে।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভক্তি ও সরকারের জনভিত্তি ও বিচ্ছিন্নতা থাকলে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি অসম চুক্তি করার জন্য চাপ দিতে পারে এবং দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ে খেলার সুযোগ পায়। তার লক্ষণও পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা আমাদের দেশের রাজনীতিতে বারবার প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করেছে।

নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের ধারণা (Concept) গড়ে উঠেছিল। বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়। তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে বহুদিন পর ১৯৯১ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশে জনগণের অংশগ্রহণমূলক একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে সুক্ষ্ম কারচুপির কথা বলে দীর্ঘদিন সংসদ বয়কট করে, রাজনীতিতে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংলাপ-সমঝোতা-সালিশ করার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে স্যার নিনিয়ানের আবির্ভাব ঘটে, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মান্নান ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জলিলের দীর্ঘ সংলাপও দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করে।

ভোট ও নির্বাচন নিয়ে আবার সংকট সৃষ্টি হয় বিএনপির আমলে। ১৯৯৪ সালে মাগুরার উপনির্বাচনে ভোটে আবার কারচুপি হয়। এই পটভূমিতে আওয়ামী লীগ তত্ত্ববাধয়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। যাতে জামাতকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে সাথে নেয়। আন্দোলনের মুখে বিএনপি ’৯৬-এর ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রহসনের সংসদ নির্বাচন করে। ওই প্রহসনের নির্বাচনে গঠিত সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ হয়। ’৯৬-এর জুনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০২ সালে নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আরোহণ করে। তারেক জিয়ার হাওয়া ভবন, দ্বৈত ক্ষমতাকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভুত হয়। ২০০৪ সাল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশন আজিজ প্রায় ১ কোটির উপরে ফলস ভোটার, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। হাইকোর্টের বিচারপতির বয়স বৃদ্ধির তৎপরতা শুরু করে বিএনপি। এই সময়ে আওয়ামী লীগের ধর্মান্ধ খেলাফত মজলিসের সাথে ৫ দফা চুক্তি করে, এই নিয়ে দেশে প্রতিবাদ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আওয়ামী লীগ চুক্তি থেকে পিছিয়ে আসে। আওয়ামী লীগের সাথে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও ১১ দলের যোগাযোগ বৃদ্ধি। ফলে বাম ও ১১ দলের মধ্যে সমস্যা সংকটের উদ্ভব। বাম ফ্রন্ট ও ১১ দলে ডান সুবিধাবাদের প্রভাব, বাম ফ্রন্ট ও ১১ দলের ভাঙন, ১৪ দল গঠন, কিছুদিন পর স্বৈরাচার এরশাদসহ মহাজোট গঠন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নানা জটিলতা ও সংকটের উদ্ভব, এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে বসেন। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারি ইয়াজ উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠে। বিএনপি-জামাতের সাথে মহাজোটের পল্টন ও বায়তুল মোকাররমে লগি-বৈঠার সংঘর্ষ। এই পটভূমিতে ফখরুদ্দিনের আর্মি ব্যাক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, দুই নেত্রীকে অন্তরীণ, তারেক জিয়াকে বিতারণ-বহিষ্কার, তারেক জিয়ার লন্ডনে আশ্রয় গ্রহণ, রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেপ্তার, ফখরুদ্দিন সরকারের দুই বছর ক্ষমতায় অবস্থান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আইডি কার্ডের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়। হাইকোর্টের বিচারপতি জনাব খায়রুল সাহেবের দ্বাদশ সংশোধনী বিল পাশ। আরও দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন করার সুপারিশ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাতে আমল না দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংসদে বাতিল করে। দেশে রাজনীতিতে আবারও সংকট শুরু হয় ও জটিল রূপ ধারণ করে। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংলাপ-সমঝোতা-সালিশ করার জন্য জাতিসংঘের দূতের আবির্ভাব, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ও ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের তৎপরতা শুরু হয়। তাদের আর্থসামাজিক ও ভূরাজনীতির স্বার্থে তারা আমাদের দেশের রাজনীতিতে নাক গলায়।

সমঝোতা ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে। ২০১৫ সালে দেশে বিএনপি-জামাতের অন্তর্ঘাত-বোমাবাজির রাজনীতি মানুষ প্রত্যক্ষ করে। এই রাজনীতি ও কৌশল ব্যর্থ হলে বিএনপি-জামাত ব্যাকফুটে চলে যায়। ২০১৭ সালে ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী, আ স ম রব, মান্নারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে তৎপরতা শুরু করে। বিএনপিও তাতে যুক্ত হয়। আওয়ামী লীগের সরকার প্রধান একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপে অপকৌশল গ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে সামিল করে, অন্যদিকে নির্বাচনী ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করে। ২০১৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রশাসন ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ২৯শে ডিসেম্বর রাতের আঁধারেই সেরে ফেলে। মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আওয়ামী প্রশাসনিক ক্যু-এর মাধ্যমে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে গণতন্ত্র ভোটাধিকার নির্বাসনে। সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক চালচিত্র উল্লেখ করা হলো এই কারণে– গণতন্ত্র কেন আসে এবং যায়। এর জন্য জনগণ দায়ী কি? অবশ্যই নয়, গণতন্ত্রের জন্য এদেশের জনগণ বারবার রক্ত দিয়ে চলেছে।

দেশে বছরের পর বছর রাজনীতির এই যে অস্থিতিশীলতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে এর কারণ কি? সাম্রাজ্যবাদনির্ভর পরজীবী যে লুটেরা ধনীক শ্রেণি, সামরিক-বেসামরিক আমলা, গ্রাম-শহরে নব্য গজিয়ে ওঠা কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে তাদের শ্রেণি স্বার্থের সাথে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার রাজনীতি সাংঘর্ষিক। ‘আমাদের দেশে পুঁজিপতি শ্রেণি মূলতঃ পরজীবী ও মধ্যস্বত্বভোগী। মধ্যস্বত্বভোগীর দায়িত্ব পালনকারী গোষ্ঠীটির আয়ের পরিমাণ ও প্রকৃতি প্রধানত দুটি শর্তের উপর নির্ভরশীল। বাইরের সাহায্যের পরিমাণ এবং রাষ্ট্র ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতা।’ (বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ঃ পরনির্ভরতার প্রকৃতি প্রবন্ধ থেকে, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, পৃষ্ঠা-১৬)। এই শ্রেণির স্বার্থের প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ-বিএনপি। এদের শ্রেণি স্বার্থের প্রতিফলন ঘটছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতিতে। ফলে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দ্বন্দ্বও রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা কায়েম করে রেখেছে।

এখন রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে নানামুখী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সরকার, দল নিরপেক্ষ সরকারের কথা-বার্তা শোনা যাচ্ছে। পত্রিকায় নিউজ বের হয়েছে ‘জাতীয় সরকারের’ রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি। বিএনপি জাতীয় সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করার তৎপরতা শুরু করেছে। “একসঙ্গে ‘সরকার হঠাও’ আন্দোলন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং তারপর রাজপথের অংশীজনদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন” (১৮ এপ্রিল ২০২২, প্রথম আলো)।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, “নির্বাচনে জিতলে আমরা জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। দেশে অনেক ছোট দল আছে, যাদের অনেক যোগ্য নেতা আছে, তাঁরা নির্বাচনে না জিতলেও আমরা তাঁদের জাতীয় সরকারে নেব (১৮ এপ্রিল ২০২২, প্রথম আলো)।

এই একই গড়াব আওয়ামী লীগের ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬-এ করেছে। যে গড়াব-এর কারণে বাম-গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, ১১ দল ভেঙে যায়। রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১১ দলের সিংহ ভাগ অংশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠন করে। তখন ২৩ দফা প্রণীত হয়, যা এখন বাক্সবন্দী। কিছুদিনের মধ্যে স্বৈরাচার এরশাদকে নিয়ে মহাজোট গঠিত হয়। মহাজোট নির্বাচনে বিজয়ী হয়। নির্বাচনে জিততে পারেনি এমন ছোট দলের বড় নেতাদের মন্ত্রী হতে দেখা গেলো। পরবর্তীতে রাশেদ খান মেনন এমপি, মন্ত্রী হলেন। যে বাম ধারাকে পরিত্যাগ করে তাঁরা চলে গেলেন তাদের অবস্থান আজ কোথায়, তাদের স্বাধীন অবস্থান উদ্যোগ কি পর্যায়ে আছে? তারা আজ রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে। এই কৌশলের ফলে লুটেরা শাসকশ্রেণির ক্ষমতা আরও সংহত হয়। লুটেরা শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প ধারার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক অবস্থানে চলে যায়।

তাই কমিউনিস্ট বাম প্রগতিশীল প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তির উচিত আমাদের দেশের লুটেরা শাসকশ্রেণির মধ্যে যে (Contradiction)-দ্বন্দ্ব চলছে তাকে ব্যবহার করে নিজেদের বিকল্প করার পথ বের করা। তাদের দ্বন্দ্বের (Contradiction)-এর দ্বারা ব্যবহৃত হওয়া নয়। বর্তমানেও আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক শ্রেণি ভারসাম্যের কারণে এটা বামপন্থীদের জন্য আত্মঘাতী কৌশল হবে। বামদের যেটুকু শক্তি আছে তা আরো ছত্রখান হবে।

কমিউনিস্ট বাম প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তি বর্তমানের কর্তব্য হলো- ‘দেশের বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি তাদের শোষণ অব্যাহত ও নিরঙ্কুশ করার জন্য দেশের রাজনীতিকে দ্বি-দলীয় ধারার ছকে বেঁধে রেখেছে। ক্ষমতাসীন দল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এমনকি জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী কায়দার দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রক্ষমতা কোন গোষ্ঠী কুক্ষিগত করে রাখতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে শাসকশ্রেণির দুটি বিভাজিত গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব রয়েছে। ফলে দেশের রাজনীতিতে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার উপাদান স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শক্তির শ্রেণি-চরিত্রের আমূল পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক নীতি-দর্শনের মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বুর্জোয়া রাজনীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে বামপন্থীদের নেতৃত্বে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ছাড়া বর্তমান অবস্থার মৌলিক ও স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তা সম্ভব করতে হলে প্রয়োজন জনগণের আস্থাভাজন কার্যকর বাম-গণতান্ত্রিক শক্তি-সমাবেশ গড়ে তোলা (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক রিপোর্ট, দ্বাদশ কংগ্রেস, পৃষ্ঠা-৬৬, ২য় প্যারা)।

বর্তমানে তাই গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য ও প্রয়োজন লুটেরা শাসকশ্রেণির ক্ষমতাসীন প্রতিনিধি বর্তমান সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে শানিত ও জোরদার করা। অবাধ মুক্তবাজারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে, খাদ্য, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, শিক্ষায় মানুষ যে বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে–যার ফলে সমাজে সকল স্তরে যে দ্বন্দ্ব চলছে ও সৃষ্টি হয়েছে তার বিপরীতে বৈপ্লবিক বিকল্প আর্থসামাজিক কর্মসূচি নিয়ে শ্রেণিপেশার লড়াইকে জোরদার করা। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য দল নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের দাবিতে গণসংগ্রাম-গণআন্দোলন গড়ে তোলা।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.