রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে, দুই ছাত্রের আত্মহত্যার চেষ্টা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কাটার ঘটনায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভবনগুলোতে তালা দিয়ে বাইরে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন ধরে আমরণ অনশনে আছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। আজ সকালে পৌর শহরের বিসিক মোড় এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন এবং কান্দাপাড়া এলাকায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন তাঁরা। তাঁরা শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। গত শুক্রবার গভীর রাত থেকেই আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।

আজ দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শামীম হোসেন বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দিকে আবিদ হাসান নামের আরেক ছাত্র ব্লেড দিয়ে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে অন্যরা তাঁকে নিবৃত্ত করেন।

এদিকে এসব ঘটনার পর শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নগরবাড়ি-হাটিকুমরুল মহাসড়ক দুপুর ১২টা থেকে প্রায় ১ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন কেটে দেন বলে অভিযোগ। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে পরের রাতে নাজমুল হাসান নামের এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সব পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা। ২১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। ২২ অক্টোবর সিন্ডিকেট বৈঠকে ওই প্রতিবেদনের আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা মুলতবি হওয়ায় রাতেই আবার আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.