যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার সিদ্ধান্ত : উত্তর কোরিয়ার ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আর কোনো শান্তি আলোচনায় তারা অংশগ্রহণ করবে না। ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে দেশটি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার মুখপাত্র বলেন ‘দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার আর কোনো শব্দ নেই আমাদের।’ আর কোনো ধরনের আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকাণ্ডকে (সামরিক মহড়া) সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয় বিবৃতিতে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া নিয়ে শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। তারা এটাকে ‘যুদ্ধের মহড়া’ বলে মন্তব্য করেছে। সম্প্রতি ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে কিম জং–উন সামরিক মহড়াকে ‘অসম্ভব এবং ব্যয়বহুল’ বলে অভিযোগ করেছিলেন। বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এমনকি এই সময়েও, দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া করতে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ অর্থনীতি বা শান্তিপূর্ণ শাসনের কথা বললে, তাদের এটা করার কোনো অধিকার নেই। যখন তিনি (প্রেসিডেন্ট মুন) উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে আলোচনার কথা উল্লেখ করছেন, তখন আমাদের সেনাবাহিনীর বেশির ভাগকে ৯০ দিনের মধ্যে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছেন। এ অবস্থায় তাঁর চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়াটি ঠিক কি না, তা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।’
এর মধ্যে শুক্রবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলের উপকূলে পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পরীক্ষা চালানো হয়। গত জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনা আবারও শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.