যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ

একতা লাইভ টিভি ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক রাজ্যে, শহর ফুসে উঠছে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে। ২৫ মে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে খুন করলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে আন্দোলন তীব্রতা পায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিহত ব্যক্তি নিরস্ত্র ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। তিনি বারবার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারকে বলছিলেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’ কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন জর্জ ফ্লয়েড। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে স্থানীয়রা রাস্তায় নামলেও পরে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢল নামে।

প্রথমে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিস। বিক্ষোভকারীরা মিনিয়াপলিসের একটি থানায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ওই অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মিনিয়াপলিসের বিক্ষোভে অংশ নেয় কয়েক হাজার আন্দোলনকারী। তাদের অনেককে সংলগ্ন বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায়। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদও বিক্ষোভ শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়াতে দেখা দিয়েছে উত্তাল বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে নিউ ইয়র্ক, লস অ্যানজেলেস, শিকাগো, ডেনভার, হিউজটন, লুইসভিলে, ফিনিক্স, কলম্বাস ও মেম্ফিসে। এমনকি বিক্ষুব্ধ জনতা হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ করে। এ সময় জর্জ ফ্লয়েডের ছবিসহ প্লাকার্ড নাড়িয়ে হোয়াইট হাউজের বাইরে সমবেত হয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্লোগান দিতে থাকেন। তারা সমস্বরে বলতে থাকেন- ‘আই ক্যান্ট ব্রিথ’। অর্থাৎ আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। এই শব্দ কয়টি জর্জ ফ্লয়েডের উচ্চারণ করা শেষ শব্দ। একই কথা ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে বলেছিলেন আরেক কৃষ্ণাঙ্গ এরিক গারনার। তিনিও পুলিশি নির্যাতনে মারা গিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউজ অস্থায়ীভিত্তিতে রয়েছে লকডাউনে। সব প্রবেশদ্বার ও বহির্গমন পথ বন্ধ করে দিয়েছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। ওদিকে বিক্ষোভের রিপোর্ট কভার করতে যাওয়া সিএনএনের সাংবাদিক ওমর গিমিনেজকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ তার ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজককে আটক করে। ওমর গিমিনেজকে হাত পিছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরে তাদেরকে কোন অভিযোগ গঠন ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যায়িত করে ক্ষমা চেয়েছেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ। অন্যদিকে সিএনএন বলেছে, এভাবে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে।

জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনকে থার্ড ডিগ্রি হত্যা ও সেকেন্ড ডিগ্রি ম্যানস্লাউটারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও অন্য কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছে বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি হত্যাযজ্ঞের অভিযোগকে আরো ধারালো করেছে। ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনিতেই অভিযোগ আছে, যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে দেশটিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এক হাজার ১৪ জন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, নিহতদের বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স নামে একটি বেসরকারি সংস্থার চালানো জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিন গুণ বেশি মারা যায় কৃষ্ণাঙ্গরা। দেশটিতে পুলিশি নির্মমতার প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছে #BlackLivesMatter (কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান) নামের আন্দোলন। গায়ক বিয়ন্স, বাস্কেটবল খেলোয়াড় লেব্রন জেমস-এর মতো তারকারা এই আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।