যাত্রামোহনের বাড়ি ভাঙায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রামে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

গতকাল (০৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি বাড়িটি ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের ২০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশও দিয়েছে।

এদিকে এর আগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম জেলার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।

এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে পিপলস ভয়েস এবং চট্টগ্রাম বিপ্লব ও বিপ্লবী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ থেকে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়িটি রক্ষা করে সেখানে বিপ্লবীদের স্মৃতিরক্ষায় জাদুঘর স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্ত রহমতগঞ্জে ১৯ গণ্ডা জমির উপর এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। চট্টগ্রামের এই আইনজীবীর ছেলে হলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত।

ব্যারিস্টার যতীন্দ্রমোহনও ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা। তিনি কলকাতার মেয়রও হয়েছিলেন। আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের আন্দোলন, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ বসু, মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় এই বাড়িতে এসেছিলেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীরাও এই বাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তীর হয়ে মামলা লড়েছিলেন যতীন্দ্রমোহন। এতে ব্রিটিশ শাসকদের রোষানলে পড়ে ১৯৩৩ সালে কারাগারে মৃত্যু হয়েছিল যতীন্দ্রমোহনের।

ওই জমিটি পরে ‘শত্রু সম্পত্তি’ ঘোষিত হয়। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে শামসুদ্দিন মো. ইছহাক নামে এক ব্যক্তি জমিটি ইজারা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

তবে যাত্রামোহনের এক স্বজনের কাছ থেকে কেনার দাবি করে আদালতের একটি আদেশ নিয়ে সোমবার বাড়িটি ভাঙতে যায় একটি পক্ষ, স্থানীয়দের নিয়ে যা ঠেকিয়ে দেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত।

বাড়িটি আলোচনায় উঠে আসল জেলা প্রশাসনের আবেদনে চট্টগ্রামের একটি আদালত বৃহস্পতিবার এক আদেশে তা ভাঙার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।