মূল ব্যাধিটার চিকিৎসা করতে হবে

ইমতিয়াজ মাহমুদ:

সূফী সাধক, বাউল ফকির বা ওদের অনুসারীরা, ওরাও ধার্মিকই বটে। মুসলিমদের মধ্যে সূফী ও বাউলরা অর্থোডক্স মুসলিমদের মত করে প্রার্থনা করে না, ওরা প্রেম ভক্তি মানবতা এইসবের কথা প্রচার করে গান কবিতা ও ওদের জীবনযাপনদের পদ্ধতির মধ্য দিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই এই দুইদল একে অপরকে পছন্দ করে না। এই যে পারস্পরিক অপছন্দ, সেটার প্রকাশ কিভাবে হয়? সূফী ও বাউলরা এটার প্রকাশ করে গানে ও কবিতায়। ওদের কথা হচ্ছে ভারী ভারী কিতাব পাঠ ও কিতাব মেনে মসজিদ মন্দিরে প্রার্থনা করলেই ঈশ্বর মিলে না, ঈশ্বরকে পেতে হলে মানুষকে ভালবাসতে হবে ইত্যাদি। এইরকম কথা আপনি লালন শাহ্র গানে পাবেন, প্রায় সকল সূফী ও বাউল সাধকদের গান ও কবিতার মধ্যেই পাবেন। এইভাবেই বাউল ও সূফীরা অর্থোডক্স ধার্মিকদের বিরোধ করে। আর অর্থোডক্স মুসলিমরা কিভাবে এইসবের জবাব দেয়? ওরা সূফী ও বাউলদের গলা কেটে ফেলে, ওদেরকে হত্যা করে, ওদেরকে আঘাত করে আর আধুনিক যুগে এসে ওদেরকে গুলি করে মারে অথবা বোমা মারে ওদের আখড়াগুলিতে।

আপনি যদি গত এক দশকের উদাহরণ দেখেন, দেখবেন যে হুসনি মুবারকের পতনের পর থেকে মিশরের বিভিন্ন শহরে মাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানে শিয়া সুন্নি বিবাদের পাশাপাশি সূফীদের উপর ক্রমাগত হামলা অব্যাহত আছেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা ঘটনা মনে পড়ছে, ২০১০ সনে লাহোরে একটা সূফী মাজারে বোমা হামলায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছিল ঘটনাস্থলেই। দাগেস্তানে (একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এটা) একজন সূফী ধর্মীয় গুরু সৈয়দ আফেন্দি চারকিইস্কির আখড়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয় ২০১২ সনে। সৈয়দ আফেন্দিসহ মোট তিরিশ জনের মত মারা যান সেই ঘটনায়। আইসিস নামের সন্ত্রাসী সংগঠনটি অনেকগুলি সূফী দরবেশের মাজার ইত্যাদি বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। আফগানিস্তানেও অনেক হামলা হয়েছে সূফীদের উপর- বিস্তারিত উদাহরণ আর দিলাম না। এই ঘটনাগুলির প্রত্যেকটাতেই হামলাকারীরা ছিল অর্থোডক্স ধরনের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। আর এইসব হামলার পেছনে ওরা যেসব কারণ দেখায়- সেটা হচ্ছে যে সূফীদের আচরণ নাকি ইসলামসম্মত নয়।

আমাদের এখানেও কয়েকদিন পরপরই দেখা যায় কোথাও না কোথাও বাউলদের উপর হামলা হচ্ছে বা ওদের আখড়ায় হামলা হচ্ছে বা ওদের সাধুসঙ্গে হামলা হচ্ছে। ২০১১ সনে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এইরকম একটা হামলা হয়। ঐখানে একজন বাউলের বাড়িতে সাধুসঙ্গ হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাউল সাধকরা গিয়েছেন সেখানে। ওরা সেখানে জড়ো হয়ে গান বাজনা করেন। সেইখানে স্থানীয় লোকজন হামলা করেছে। বাউলদেরকে ধরে মারধোর করেছে, ওদের চুল দাঁড়ি কেটে দিয়েছে, গোঁফ কেটে দিয়েছে, ওদের অনেকের বাদ্যযন্ত্র কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেছে। অভিযোগ ছিল যে এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও জড়িত ছিল। এরকম একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বলেছিলেন যে, মুসলিম ধর্মীয় নীতি না মেনে বাউলরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড করছিল। এলাকার মুসল্লিরা এটা মেনে নিতে পারেনি বিধায় এরকম ঘটনা ঘটেছে, ইত্যাদি। গত কয়েক বছরে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় বাউলদের উপর মাঝে মাঝেই হামলা হয়েছে। সেগুলি তো খবরের কাগজে তো এসেছেই আরকি।

অতি সম্প্রতি তিনটা ঘটনা ঘটেছে। গান গাওয়া ইসলামে হারাম নয় দাবি করায় বয়াতি শরিয়ত শিকদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় শরিয়ত শিকদার জেলে গেছেন। আরেক বয়াতি রীতা দেওয়ান আল্লাহ্‌ উল্লেখ করার সময় অতি নিকট আপনজনের মত করে আল্লাহ্‌কে সম্বোধন করেছিলেন সেই ভাষা অর্থোডক্স মুসলিমদের পছন্দ হয়নি বিধায় ওরা রীতা দেওয়ানকে মামলার ও হামলার ভয় দেখিয়েছে। ভয়ের মুখে বেচারা রীতা দেওয়ান তাঁর দুই কন্যাসহ হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার একটা ভিডিও করে সম্প্রচার করতে বাধ্য হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আমাদের আরেকজন মারফতি গানের শিল্পী মমতাজকে তো প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গালাগালি করে মৌলানা সাহেবরা আর ওদের অনুসারীরা। আর এই তো সেদিন, গতমাসের শেষ দিকে সুনামগঞ্জে বাউল হিরা ঠাকুরের ভাই রনেশ ঠাকুরের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ওর গানের ঘর, গানের খাতা আর সব বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। সহজেই অনুমেয়, এই কাণ্ডটাও অর্থোডক্স ধার্মিকরাই করেছেন।

লক্ষ্য করবেন যে, বাউল বা সূফী বা দরবেশদের উপর এইসব হামলা হয় এমন সব দেশে যেখানে গণতন্ত্র নাই এবং যেসব দেশে একটি বিশেষ ধর্মকে হয় রাষ্ট্রের মূল ধর্ম হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে অথবা একটি বিশেষ ধর্মের বিধানগুলিকে রাষ্ট্রটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুসরণ করে। অন্য কথায় বললে রাষ্ট্রে যখন ধর্মনিরপেক্ষতা থাকে না, তখনই সংখ্যাগুরু ধর্মের অনুসারীরা অন্য ধর্মের উপর বা নিজ ধর্মেরই সংখ্যালঘু ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর আক্রমণ করে। না, সংগঠিত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলি তো যে কোনো দেশে যে কারো উপর যে কোনো সময় হামলা করতে পারে। সেটার কথা বলছি না। বলছি সেইসব হামলার কথা যেগুলি সংখ্যাগুরু জনগণ সরাসরি অনুমোদন করে বা পরোক্ষভাবে অনুমোদন করে। দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকলে এই হামলাগুলি হতো না এবং সংখ্যাগুরু জনগণের মধ্যেও এইসব সূফী দরবেশ বা বাউল ফকির-বয়াতি এদের প্রতি সহনশীলতা বাড়ত। কেননা দেশ থেকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতাকে বিতাড়ন করেছি, আমাদের দেশে বাউলদের উপর এইসব অত্যাচার চলতেই থাকবে এবং অত্যাচারের মাত্রা হয়তো আরও বেড়ে যাবে।

ধার্মিকতা নিয়ে কোন বড় সমস্যা নাই। মানুষের মধ্যে একেক দল একেকটা ধর্মে বিশ্বাস করবে এবং তারা তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে আবার সেই সাথে একদল থাকবে যারা কোনো ধর্মেই বিশ্বাস করবে না- এটা তো খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সমস্যা হয় সাম্প্রদায়িকদের নিয়ে। ধার্মিক ব্যক্তি ধর্ম পালন করবে। সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অপর ধর্মবিশ্বাসীদের উপর হামলা করে। ধার্মিক ব্যক্তি মসজিদে মন্দিরে নামাজ পড়বে পূজা করবে প্রার্থনা করবে, আর সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি মসজিদে মন্দিরে বা চার্চে যাক বা না যাক অন্যের উপাসনালয়ে হামলা করতে ঠিকই যাবে। এইখানে রাষ্ট্রের ভূমিকা যদি নিরপেক্ষ না থাকে তাইলেই দেখা যায় যে ধর্মগুলির মধ্যে যারা যে দেশে সংখ্যাগুরু থাকে ওরা সেই দেশে সাম্প্রদায়িক রূপ পরিগ্রহণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের ইতিহাসের দিকে তাকালেই এই কথার যথার্থতা আপনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর, যেখানে আমরাও শরিক ছিলাম, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দুই একটা বক্তৃতায় বলেছিলেন যে, পাকিস্তান কেবল মুসলমানের দেশ হবে না, পাকিস্তান হবে সকল ধর্মের বিশ্বাসীদের দেশ। কিন্তু কথাটা ঐ বক্তৃতার মধ্যেই আবদ্ধ ছিল, বাস্তবে পাকিস্তান প্রথম থেকেই একটা মুসলিম রাষ্ট্রের রূপ গ্রহণ করতে থাকে এবং কমিউনিস্টরা ছাড়া পাকিস্তানের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনই কোনো না কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক ছিল। ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম একটা ধর্মনিরপেক্ষ স্ফুলিঙ্গ। ১৯৫২’র পর জন্ম নেওয়া যুবলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এইসব সংগঠন এদেশের প্রথম দিকের অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন। আওয়ামী লীগ নিজের দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটা বাদ দিয়েছে পরে। কিন্তু দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা এতো প্রবল ছিল যে রাজনৈতিক দলগুলি পুরোপুরি ধর্মীয় প্রভাব থেকে বের হয়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান নেবে সেই সাহস ওদের ছিল না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে- ’৫৪র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার।

’৫৪র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান একটা ঘটনার বর্ণনা করেছেন তাঁর ‘ধর্মরাষ্ট্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম’ প্রবন্ধে। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার রচনার ভার পড়ে আবুল মনসুর আহমদের উপর। তিনি এর আগে আওয়ামী লীগের জন্য ৪২ দফার একটি কর্মসূচি লিখেছিলেন। সেই ৪২ দফাকে কিছুটা কেটে ছেঁটে আর কিছুটা পুনর্বিন্যাস করে তিনি ২১ দফায় রূপ দেন। ২১ দফা করেছিলেন ২১শে ফেব্রুয়ারির কথা মাথায় রেখে। সেই একুশ দফা যখন তিনি মাওলানা ভাসানিকে দেখিয়েছেন, মাওলানা ভাসানি নাকি বলেছিলেন কুরআন সুন্নাহর বিরোধী কোনো আইন করা হবে না এইরকম একটা প্রতিশ্রুতি যোগ করে দিতে হবে। আবুল মনসুর আহমদ ২১ দফাকে পরিবর্তন করতে চাননি। তার পরিবর্তে তিনি প্রথম দফার উপরে একটা নীতি হিসাবে কথাটা যোগ করে দেন। যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে একুশ দফা কর্মসূচির উপরে ওরা ঐ কথাটা যুক্ত করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এর কারণ সহজেই অনুমেয়।

মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু সাম্প্রদায়িক ছিল না। বরং মুক্তিযুদ্ধ ছিল ধর্মীয় রাজনীতির বিপরীতে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে একটা যুদ্ধ। ফলে যুদ্ধের পর আমাদের জন্যে একটা সুযোগ এসেছিল ধর্মনিরপেক্ষ একটা সমাজ রাষ্ট্র তৈরি করা। কিন্তু সেই সুযোগও আমরা হারিয়েছি। ১৯৭৫-এ বড় বিপর্যয়টা হয়েছে, কিন্তু ৭৫ এর পূর্বেও ৭২ সনের পরপরই আমাদের সেসময়ের সরকার ও রাজনীতির মধ্যেও সাম্প্রদায়িক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে তখন সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা কথাটা ছিল, একটা প্রত্যাশা ছিল এবং সুযোগ ছিল একটা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করার। পরে তো সেটাও গেছে।

রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণ করলে কি হবে? তখন সাম্প্রদায়িকতার পথ কঠিন হবে, অসাম্প্রদায়িক একটা পরিবেশ বিকাশ সহজ হবে। রাষ্ট্রীয় নীতিটা তো শুধু কথার কথা না। একটা দেশ যদি প্রকৃতই নীতি হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণ করে তখন কি হয়? তখন সেই নীতির প্রতিফলন হয় সমাজের সর্বস্তরে। স্কুল কলেজে ছেলেমেয়েরা বড় হয় সেইভাবে। ওরা ধার্মিক হয়তো হয়, কিন্তু সাম্প্রদায়িক হয় না। এমনকি সমাজে যেসব সাম্প্রদায়িক শক্তি থাকে, ওদের আচরণও থাকে অনেক নিয়ন্ত্রিত। পুলিশ, আর্মি ও সিভিল প্রশাসনের লোকজনের আচরণেও সেটার প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু সেটা না হয়ে রাষ্ট্রের নীতি যদি একটা ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া বা একটা দেশের সরকার যদি ওদের কাজে ও কথায় একটা বিশেষ ধর্মকে প্রাধান্য দিতে থাকে তাইলে ঐসব সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা যারা করেন ওরাও তখন ঐসব ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে প্রশ্রয় দিতে থাকে।

আমাদের বিপদ হয়েছে যে আমাদের এখন সাংবিধানিকভাবেও যেমন রাষ্ট্রটা হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্র, বাস্তবেও আমাদের সরকার ঘোষণা দিয়ে মাঝে মাঝেই বলেন যে- দেশ চলবে একটি ধর্মের বিধাণ অনুযায়ী। তাইলে ঐ ধর্মটির অনুসারীদের মধ্যে যারা সাম্প্রদায়িক আছে, ওদের জন্যে তো একটা প্রায় বৈধ অজুহাত হয়ে গেল। ওরা তো বলতেই পারেন যে রাষ্ট্রধর্মের সহি ও শুদ্ধ রূপ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব, সুতরাং ধর্মীয় বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটানো এইসব কর্মকাণ্ড আমরা সহ্য করবো না। তাইলে সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করতে হলে আমাদেরকে দুইটা কাজ করতে হবে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে হবে আর দ্বিতীয় কাজ যেটা, সরকারকেও অসাম্প্রদায়িক আচরণ করতে হবে। নীতি ও সরকার দুইই যদি ধর্মনিরপেক্ষ না হয় তাইলে সাম্প্রদায়িকরা দেশ থেকে যাবে না।

এই যে বাউলদের উপর হামলা হচ্ছে সেই সাথে অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপরও অত্যাচার হচ্ছে- এইগুলি হচ্ছে উপসর্গ। এইসব উপসর্গের নিবারণ করতে হলে মূল ব্যাধিটার চিকিৎসা করতে হবে। নইলে হবে না। মাঝে মাঝে একটু নিয়ন্ত্রণ হয়তো করতে পারবেন, ব্যাধি নির্মূল হবে না।

লেখক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট