মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশ বছর: এক অসমাপ্ত জনযুদ্ধ

ডা. মনোজ দাশ

আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ছিল সত্যিকার অর্থেই একটি জনযুদ্ধ। এটি ছিল একটি জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ। এটি কোনো দলীয় যুদ্ধ ছিল না। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দল করেনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নায়ক আওয়ামী লীগ নয়। কমিউনিস্ট ও বামপন্থিদের বিরাট অবদান আছে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-দল ও শক্তির মিলিত সংগ্রাম, এদেশের মানুষের দীর্ঘ দিনের গণসংগ্রামের পরিণতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী নীতির পরাজয় এবং শান্তি-স্বাধীনতা-গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের শক্তির তাৎপর্যপূর্ণ বিজয়।

অজস্র লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে সৃষ্টি করেছিল বহুমাত্রিক চেতনাবোধ। এটা নিছক কোনো সামাজিক চেতনা ছিল না। এই চেতনা একদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন, তার অস্তিত্বের ভিত্তি; একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের সোপান।

এদেশের মেহনতি মানুষ ও জনগণ শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে নির্মাণ করেছে ইহজাগতিক-গণতান্ত্রিক ও মানবিক লোকসংস্কৃতির সুবিশাল ভাণ্ডার। মনীষীরা সৃষ্টি করেছেন শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের ঐশ্বর্যময় ধারা। লোক সংস্কৃতি তথা শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের এই গণতান্ত্রিক-ইহজাগতিক ও মানবিক ঐতিহ্যে লালিত এই ভূখণ্ডের মানুষ গড়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক চেতনায়। আর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধের আত্মপ্রকাশ মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরো ঋদ্ধ করে তোলে। স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধিকার আন্দোলন ছিল মর্মগতভাবে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর শোষণ-শাসনের নাগপাশ থেকে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। ফলত: মর্মগতভাবেই এ আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সারকথা। স্বাধীনতার জন্য দেশবাসীর মুক্তিসংগ্রামের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সারা বিশ্বের শান্তি, গণতন্ত্র, প্রগতি ও সমাজতন্ত্রের শক্তিগুলো। বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মুক্তিসংগ্রামের ধারার সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে ওঠে আমাদের মুক্তি সংগামের। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক যোগসূত্র এবং জাতিগত বৈষম্য-শোষণের বিরুদ্ধে অন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে সমাজতন্ত্র আমাদের মুক্তি সংগ্রামের মৌলিক চেতনা ও লক্ষ্য হিসেবে সামনে চলে আসে। এটাই হয়ে ওঠে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের দিশা। আমাদের স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা এসব চেতনা ও মূল্যবোধগুলোই মুজিবনগর সরকারের ঘোষণায় সাম্য-মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকরী নীতি ও পদ্ধতি হিসেবে সঙ্গতকারণেই গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা-জাতীয়তাবাদ স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধানে গৃহীত হয়েছিল।

কিন্তু স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ, উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য বদলের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় শাসক দল আওয়ামী লীগ তাদের শ্রেণিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে কাজে লাগাতে পারেনি। স্বাধীনতার পর শিল্প জাতীয়করণ ও রাষ্ট্রীয় খাতের অগ্রাধিকারের ফলে স্বাধীন জাতীয় অর্থনীতির বিকাশের একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাট, রাষ্ট্রীয় খাতের অপব্যবহার প্রভৃতি এক নব্য ধনিকগোষ্ঠীর অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। জাতীয় অগ্রগতি ও বিকাশের অন্যতম মূল পূর্বশর্ত মৌলিক ভূমি-সংস্কারের কর্তব্য অবহেলা করা হয়। গ্রামাঞ্চলে সাবেকি উৎপাদন কাঠামো অব্যাহত থেকে যায়। জাতীয় স্বার্থে ঔপনিবেশিক আমলের আমলাতন্ত্র ভেঙে দিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে না তুলে পুরনো প্রশাসন অব্যাহত রাখা হয়। স্বাধীন জাতীয় বিকাশের সম্ভাবনাকে কাজে না লাগিয়ে সাম্রাজ্যবাদনির্ভর ধনবাদী ধারা বহাল থাকে। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে জাতীয় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার চক্রান্তে, সামরিক বাহিনীর এক অংশের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়ার ধারা নিরঙ্কুশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা অতিক্রম করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত হওয়া তো দূরের কথা, দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। আজ আধিপত্যবাদ-সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্র ও গণতন্ত্রহীনতা দেশের সামনে বিপদ রূপে বিরাজ করছে। দেশ আরো বেশি করে সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদের নিগড়ে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িকীকরণ ঘটে চলেছে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন হামলা বন্ধ হয়নি। রাষ্ট্রের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা ও কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক যন্ত্রগুলি শক্তিশালী হয়ে উঠলেও তার জনকল্যাণমূলক কাজ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের ও শক্তির হস্তক্ষেপ বাড়ছে। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরো দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে চলেছে। বিকেন্দ্রীকরণের বদলে ক্ষমতার অধিকতর আমলাতান্ত্রিকরণ ও কেন্দ্রীভবন ঘটে চলেছে। জনগণের সমর্থনের বদলে, রাষ্ট্রযন্ত্রের শক্তিকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে এবং বিদেশি আশীর্বাদকে অবলম্বন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার অব্যাহত প্রচেষ্টা চলছে। সম্পদ বৈষম্য ও শ্রেণিবৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিপুল অর্থ। রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতিতে বিপদজনক দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে। পরিবেশ-প্রকৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষের মনে বিরাজ করছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ। পরিস্থিতির দাবি হলো- মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে গোটা অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। বর্তমান সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল পরিবর্তন সাধন ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি নেই।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও শোষণ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত বাস্তবায়ন ঘটবে এবং এই প্রক্রিয়ায় যেহেতু উৎখাত করবে সব ধরনের শোষণ ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে, সেহেতু এই প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণি ও স্তরের স্বার্থ একই রকম নয়। একমাত্র লুটেরা শাসকশ্রেণি ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী ব্যক্তি ছাড়া সকলের স্বার্থই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্যে নিহিত আছে। দেশি-বিদেশি শাসক শ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী বুর্জোয়া ধারার রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার গঠন করলেও, তারা কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত করেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে রাষ্ট্র ও সমাজের গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক-প্রগতিশীল পরিবর্তনে শত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের সহযোগী লুটেরা ধণিকগোষ্ঠী এবং গ্রামাঞ্চলের কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীসহ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। তাই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শক্তির শ্রেণিগত চরিত্র বদল না হলে এবং অর্থনৈতিক-সামাজিক নীতি-দর্শনের প্রগতিমুখী মৌলিক পরিবর্তন না ঘটলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লক্ষ্যের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দেশের বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারাকে ম্লান ও ভূলুণ্ঠিত করেছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে রঞ্জিত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারায় দেশকে পরিচালিত করার কর্তব্যটি সম্পাদন করতে হবে দেশের মেহনতি মানুষকে। রাজনৈতিক দল হিসেবে মেহনতি মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে কমিউনিস্ট ও বামপন্থিদের।

একমাত্র শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষকে সচেতন ও সংগঠিত করতে পারলেই বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তারা চালিকাশক্তি হতে পারে। জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম বা গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সব সময়ই বুর্জোয়ারা বেঁধে রাখতে চায় বুর্জোয়া গণতন্ত্রের চৌহদ্দির মধ্যে। সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বুর্জোয়াশ্রেণির সামগ্রিক সমর্থন কখনোই থাকে না। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের বুর্জোয়াশ্রেণির সমর্থন ও অংশগ্রহণ থাকা সত্ত্বেও যখন দেখা গেল জ্যাকোবিনদের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখনই তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। রোবসপিয়েরের নেতৃত্বে ফ্রান্সে যে জ্যাকোবিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাভাবিকভাবেই ফ্রান্সের বুর্জোয়াশ্রেণি সেটিকে স্বাগত জানায়নি। তারা চেয়েছে, গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে বুর্জোয়াদের স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখতে। তারা শ্রেণিস্বার্থে তখন গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিগুলির সাথে হাত মেলায়, নিজেরাই গণতন্ত্রবিরোধী হয়ে পড়ে, যাতে কোনোক্রমেই জনগণের প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাদের ক্ষমতা স্থানান্তরিত না হয়। বুর্জোয়ারাই যেহেতু গণতন্ত্রের অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে চায়, এজন্য তারা জাতীয় মুক্তি বিপ্লব বা গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্য ও কর্মসূচিকে বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে পারে না। গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে স্বার্থকভাবে সম্পন্ন করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব গিয়ে পড়ে শ্রমিক ও অন্যান্য মেহনতি শ্রেণির ওপরে। শ্রমিকশ্রেণি এই বিপ্লবের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। কারণ শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থেই সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এই গণতান্ত্রিক বিপ্লব শ্রমিক শ্রেণির অধিকার ও স্বার্থকে সুরক্ষা দেয়। গণতান্ত্রিক বিপ্লবে শ্রমিক শ্রেণির নিজেকে চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে তার লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার ভিত্তিতে প্রণীত বিকল্প কর্মসূচির ভিত্তিতে মেহনতি মানুষকে সংগঠিত করতে পারলেই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের বস্তুগত শক্তিতে পরিণত হবে। দেশের মধ্যস্তরের জনগণ বিশেষত শিক্ষিত ছাত্র-যুবরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সাম্রাজ্যবাদের পদলেহি জাতীয় স্বার্থবিরোধী লুটেরা বুর্জোয়ারা বাদে ক্ষুদে-মাঝারি এবং সাধারণভাবে জাতীয় স্বার্থের ধারায় বিকাশমান উৎপাদনশীল গোষ্ঠী নানা দোদুল্যমানতাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখার সম্ভাবনা আছে।

মেহনতিদের আছে সুমহান সংগ্রামী ঐতিহ্য, আছে অতীত অনেক গৌরবগাঁথা। মুক্তিযুদ্ধকালে সমগ্র জাতির ঐক্য, অপরিসীম ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা আমরা ছিনিয়ে এনেছি। তখন মূল নেতৃত্বে ছিল বুর্জোয়ারা। তাদের শ্রেণিগত স্বার্থের কারণেই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত করেনি। আজ নতুন করে জাতীয় উজ্জীবনের কর্তব্য আমাদের সামনে উপস্থিত। এবারের এই নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক জনযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হবে মেহনতি মানুষকে। সমগ্র জাতির সকল দেশপ্রেমিক শ্রেণি, স্তর ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে, মেহনতিদের সমস্ত শক্তি ও সমবেত সংগঠন শক্তির মাধ্যমেই জাতীয় উজ্জীবনের এই কর্তব্যে মেহনতি শ্রেণিকে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদেরই মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

লেখক: সভাপতি, খুলনা জেলা কমিটি, সিপিবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.